বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন। বরপক্ষ আসবে, তাদের খাওয়ার আয়োজন চলছে পুরোদমে। কনের সাজও চলছে। সবার মনেই আনন্দ। সেই আনন্দের আসরে বিভীষিকা হয়ে দেখা দিল এক বখাটে।
দিনের পর দিন কনেকে উত্ত্যক্ত করে চলা যুবক ছুরি নিয়ে হামলে পড়ল বাবার ওপর। আঘাত করল মাকেও। মুহূর্তে বদলে গেল দৃশ্য। রক্তাক্ত হলো বিয়ের আসর।
হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা গেলেন বাবা। মাও ছুরির আঘাত নিয়ে কাতরাচ্ছেন হাসপাতালের বিছানায়। বিধ্বস্ত মন আর কান্না ভেজা চোখে তবু মেয়েটিকে বসতে হচ্ছে বিয়ের পিঁড়িতে।
কারণ বিয়ে ভেঙে গেলে আসবে সামাজিক অপবাদ, নানা গঞ্জনা। মানবতাবাদী বর তা বুঝতে পেরে বৃহস্পতিবারেই বিয়ের সব কাজ সম্পন্নে সম্মত হন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর হাতিরঝিলের দিলু রোডে। এ ঘটনায় বখাটে যুবক সজীবকে আটক করে পুলিশ।
হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রশীদ জানান, কনে ফাতেমা আক্তার স্বপ্না এবং বখাটে যুবক একই স্কুলে লেখাপড়া করত। বখাটে সজীব স্থানীয় একটি গ্যারেজে কাজ করত। স্বপ্নাও ৮ম শ্রেণির পর আর লেখাপড়া করেনি। বিয়ের আগের দিন কনের বাবা-মায়ের সঙ্গে সজীবের কথাকাটাকাটি হয়।
পুলিশ আরো জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে দিলু রোডের প্রিয়াংকা শুটিং হাউসে দেয়াল টপকে ভেতরে ঢোকে সজীব। এ সময় কনের বাবা তুলা মিয়া তাকে বাধা দিলে সে ছুরিকাঘাত করে। তুলা মিয়াকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে মা ফিরোজা বেগমকেও সে ছুরিকাঘাত করে।
আব্দুর রশীদ জানান, এ সময় আত্মীয়রা এসে সজীবকে জাপটে ধরে নিরস্ত্র করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ সজীবকে আটক করে। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তুলা মিয়ার মৃত্যু হয়। ফিরোজা বেগমকে সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বর মো. আলী জানান এ ঘটনার পরও তিনি স্বপ্নাকে বিয়ে করবেন।
তার বাড়ি চট্টগ্রামের হালিশহর। বিয়ের পর স্বপ্নাকে তিনি সেখানে নিয়ে যাবেন বলেও জানান।
তিনি বলেন, এখানে মেয়েটির কোনো দোষ নেই। এ বিয়ে না করলে সামাজিকভাবে তাকে নানা সমস্যায় পড়তে হবে।
ফাতেমা আক্তার স্বপ্না জানান, হত্যাকারী সজীব ও তিনি একই স্কুলে পড়তেন। সজীব বয়সে তার ছোট হলেও সব সময় তাকে উত্ত্যক্ত করত। বিয়ের আগের দিন বুধবারও তাকে হত্যার হুমকি দেয় সজীব।
স্বপ্নার পরিবারের সদস্যরা জানান, তুলা মিয়াদের বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুরের আকাশি গ্রামে। স্বপ্না ও আলীর বিয়ের আয়োজন হয় প্রিয়াংকা শুটিং হাউসে। তুলা মিয়া এখানকার ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সজীব দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে স্বপ্নার বাবাকে বলে, ‘মেয়ের বিদায় দিচ্ছিস, আমিও তোদের বিদায় করে দেব’।
তারা আরো জানান, বরপক্ষের জন্য মেয়ের মা-বাবা রান্না ঘরে ব্যস্ত ছিলেন। সজীবের একের পর আঘাতে প্রথমে বাবা ও পরে মা আঘাত পান। রান্নাঘর রক্তাক্ত হয়ে পড়ে। মেয়ে তখন সাজ নিচ্ছিল। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে বাবার মৃত্যু হয়।
আটক সজীবের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার বিয়ের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর মামলা করবে বলে পুলিশ জানায়।
