‘কাশ্মীরের সুন্দরীদের বিয়ে করতে মুখিয়ে আছে বিজেপি কর্মীরা’

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৯, ০১:১১ পিএম

কাশ্মীরের সুন্দরী মেয়েদের বিয়ে করতে মুখিয়ে আছে বিজেপি কর্মীরা, মঙ্গলবার এমন বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে সমালোচিত হয়েছেন বিজেপির উত্তরপ্রদেশের এক এমপি।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের ঘোষণাকে নেতা-কর্মীদের নিয়ে উদ্‌যাপন করেন মুজাফফারনগরের কাতৌলির বিজেপি বিধায়ক বিক্রম সিং সাইনি। সেখান এক বক্তব্যে তিনি বলেন, “দলের ব্যাচেলর কর্মীরা বেশ উচ্ছ্বসিত, তারা এখন কাশ্মীরের সুন্দরী মেয়েদের বিয়ে করতে পারবে।”

বিক্রম সিংয়ের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় উঠে।

কাশ্মীরের অধিকার সংবলিত বাতিল হওয়া ৩৭০ ধারার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আগে কাশ্মীরের কোনো নারী উত্তরপ্রদেশের কোনো পুরুষকে বিয়ে করলে তার কাশ্মীরি নাগরিকত্ব বাতিল করা হতো। কাশ্মীর এবং ভারতের জন্য ছিল আলাদা আলাদা নাগরিক অধিকার। এখন হিন্দু-মুসলিম সবারই আনন্দ করা উচিত, তারা কাশ্মীরের সুন্দরী মেয়েদের বিয়ে করতে পারবে। পুরো দেশে এই আনন্দ উদ্‌যাপন করা উচিত।”

এদিকে এ বক্তব্য ভাইরাল হলে বিজেপির এই বিধায়ক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “এখন বিনা বাধায় কাশ্মীরি মেয়েদের যে কেউ বিয়ে করতে পারবে। সুতরাং আমি যা বলেছি, সত্য বলেছি। কাশ্মীরের মানুষও এই স্বাধীনতা ভোগ করবে।”

প্রসঙ্গত সোমবার ভারতের রাজ্যসভায় কাশ্মীরের ‘বিশেষ মর্যাদা’ বাতিল করা হয়। সংবিধানের যে ৩৭০ ধারার মধ্যে দিয়ে  জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা ও বিশেষ স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয়েছিল, সেটি তুলে নেওয়া হয়।

এই ধারা অনুসারী, রাজ্যের বাসিন্দা কোনো নারী রাজ্যের বাইরের কাউকে বিয়ে করলে সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হতেন। তার উত্তরাধিকারীদেরও সম্পত্তির ওপরে অধিকার থাকত না।

মূলত সেখানকার জনসংখ্যার আনুপাতিক স্থিতি বজায় রাখতে বহিরাগত বসতি স্থাপন বন্ধে এসব সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল।

প্রতিরক্ষা, বিদেশ, অর্থ এবং যোগাযোগ ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে জম্মু-কাশ্মীরে হস্তক্ষেপের অধিকার ছিল না কেন্দ্রীয় সরকারের। এমনকি কোনো আইন প্রণয়ন করতে হলেও জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের মতামত নিতে হতো।

কেবল স্থায়ী বাসিন্দারাই ওই রাজ্যে সম্পত্তির মালিকানা, সরকারি চাকরি বা স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার পেতেন। যা এখন বাতিল হয়ে যাবে। 

বিজেপি সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর এই সব অধিকার হারাবে কাশ্মীরের জনগণ। মূলত হিন্দু জনগণকে অঞ্চলটিতে বসবাসের সুযোগ করে দিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কাশ্মীর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষকদের অভিমত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত