কোচের দৌড়ে ডমিঙ্গো

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০১৯, ০১:১৮ এএম

গ্যারি কার্স্টেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান কোচ হওয়ার আগে ছিলেন রাসেল ডমিঙ্গোর শিষ্য। আর মাত্র ২২ বছর বয়সে রাসেল বুঝে গিয়েছিলেন, ক্রিকেট খেলার চেয়ে তার জন্য কোচিংয়ে মন দেওয়াই ভালো। ২৫ বছর বয়সেই হলেন ইস্টার্ন প্রভিন্সের কোচ। এখন বয়স ৪৪। দক্ষিণ আফ্রিকার ‘এ’ দলের কোচ। ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের কোচ নিযুক্ত হয়ে বাংলাদেশ সফর করে গেলেন। পরের বছর বাংলাদেশ ‘এ’ যখন ফিরতি সফরে গেল তখনো ডমিঙ্গো জায়গাটা ধরে রেখেছেন। ওদিকে ভারতকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করে চুক্তি নবায়ন না করে দেশের প্রধান কোচ হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরলেন কার্স্টেন। তখন সহকারী হিসেবে কাছে টেনে নিলেন ডমিঙ্গোকে। কার্স্টেন দু বছর পর দায়িত্ব ছাড়ার পর ২০১৩ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত ডমিঙ্গো হলেন প্রোটিয়াদের প্রধান কোচ। এর আগে ২০১২ সালেই কার্স্টেনের কাছ থেকে প্রোটিয়া টি-টোয়েন্টি দলের কোচের দায়িত্ব পেয়েছিলেন ডমিঙ্গো। এখন দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের কোচ। সাফল্যেমণ্ডিত এই প্রবল ধী-শক্তির কোচকে বুঝি এবার হারাতে বসছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কারণ, স্টিভ রোডসের উত্তরসূরি হিসেবে বাংলাদেশের প্রধান কোচ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা ডমিঙ্গোর।

মিকি আর্থার, কার্স্টেন দেশে কাজ করেন না। নিল ম্যাকেঞ্জি বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ। কদিন আগে চার্লস ল্যাঙ্গেভেল্ট হয়েছেন লাল-সবুজ দলের ফাস্ট বোলিং কোচ। আর ওদিকে দূর থেকে বাংলাদেশের কোচিংয়ের উপদেষ্টার কাজ করে যান কার্স্টেন। বোঝাই যাচ্ছে, ডমিঙ্গোকে দিয়ে তিন প্রোটিয়ার চমৎকার একটি কোচিং দল গড়ার ভাবনাটাই কাজ করেছে দারুণ সফল কোচ এবং এই কাজের উপদেষ্টা কার্স্টেন। নিজে দায়িত্ব নিতে পারেন না নানা ব্যস্ততায়। কিন্তু সবচেয়ে চেনা মানুষগুলোকে দিয়ে বাংলাদেশকে ২০১৯ বিশ্বকাপ এবং শ্রীলঙ্কার বাজে রকমের ব্যর্থতা থেকে টেনে তুলতে চাইছেন কার্স্টেন। এবং সেই পরিকল্পনায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড একমত ‘প্রায়’।

‘প্রায়’ শব্দটা এই কারণে বলা হচ্ছে যে, বাংলাদেশের প্রধান কোচ হওয়ার লড়াইয়ে তার আরও দুজন প্রতিদ্বন্দ্বী আছেন। গতকাল সকালে বাংলাদেশে এসে দুপুরে বিসিবি প্রধান নাজমুল হোসেন পাপন এবং বোর্ডের শীর্ষ কর্তাদের ইন্টারভিউ দিয়ে গেছেন ডমিঙ্গো। তার প্রেজেন্টেশনে বিমোহিত বাংলাদেশের ক্রিকেটের শীর্ষ কর্তারা। তবে আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে বাকি দুজনের সাক্ষাৎকার পর্ব শেষ না করে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাবে না বিসিবি। বাকি দুজন কারা তাও প্রকাশ করতে রাজি না তারা।

গতকাল প্রায় তিন ঘণ্টার সাক্ষাৎকার পর্ব সেরে ডমিঙ্গো বোর্ড প্রধান পাপনের অফিস বেক্সিমকো থেকে বেরিয়ে গেলেন হাসিমুখে। অপেক্ষায় ছিল মিডিয়া। কথা বলতে রাজি হলেন না। এরপর বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান এবং বোর্ডের অন্যতম ক্ষমতাবান পরিচালক জালাল ইউনুস জানালেন, ‘প্রধান কোচের জন্য তিনজনের মতো আছে আমাদের হাতে। শর্ট লিস্টের মধ্য থেকে আরও দুজন বাকি। ওই দুজনও আসবেন। এই তিনজনের মধ্য থেকেই আমরা হয়তো কাউকে বেছে নেব।’

এর আগে শোনা যাচ্ছিল, ব্যর্থ বিশ্বকাপের পর ওটিস গিবসনের জায়গাটা এই সপ্তাহে ডমিঙ্গোকে দিয়ে পূরণ করতে পারে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফররত ভারত দলকে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি এবং টেস্ট সিরিজে অন্তর্বর্তীকালীন কোচের কাজ করার জোর সম্ভাবনা ছিল তার। এর মধ্যে ডমিঙ্গোর এই বাংলাদেশ সফর এবং এই দেশের জাতীয় দলের প্রধান কোচের জন্য সাক্ষাৎকার দিয়ে যাওয়া সহজে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছে দিতে পারে যে কাউকে।

তার ওপর জালাল ইউনুস বলছিলেন, ‘তিনি একটা প্রেজেন্টেশন দিয়েছেন যে ওনার ভিশন কী, বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে তিনি কী চিন্তা করেন। কীভাবে তিনি আমাদের ডেলিভারি দেবেন, ওনার পারফরম্যান্স কীভাবে হবে এখানে। এসব কিছু নিয়ে তার সঙ্গে কথা হয়েছে। বেশ সন্তুষ্ট হওয়ার মতো একটা প্রেজেন্টেশন দিয়েছেন তিনি।’

যে তিন প্রার্থীর কথা বলছে বিসিবি তাদের প্রত্যেকের জাতীয় দলের কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা আছে। ডমিঙ্গো ঋদ্ধ তার ২২ বছরের ক্যারিয়ারে কখনো বলতে গেলে ব্যর্থ হননি বলে। তিনিই একমাত্র দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ যিনি ‘চোকার’ হিসেবে পরিচিত প্রোটিয়া দলকে বিদেশে আইসিসির বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে নিয়ে গেছেন। সেটা ২০১৫ সালের অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপ। কোয়ার্টার ফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল তার দল।

বিসিবির প্রভাবশালী কর্তাদের একজন জালাল ইউনুস ডমিঙ্গোর ক্যারিয়ার টেনে বলছিলেন, ‘তিনি খুব অভিজ্ঞ কোচ। প্রায় ৫ বছরের মতো তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার মূলধারার কোচ ছিলেন। এখন তিনি ‘এ’ দলের সঙ্গে আছেন। সবদিক দিয়ে অবশ্যই তিনি যোগ্য। তবে এখনই আমরা এটা নিশ্চিত করছি না। অন্য দুজনকে দেখব। তারপর সিদ্ধান্ত নেব এই তিনজনের মধ্য থেকে কে হবেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ।’

ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর ইংলিশ ম্যান স্টিভ রোডসকে সমঝোতার ভিত্তিতে ছেড়ে দেয় বিসিবি। ২০২০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল তার। এরপর প্রধান কোচ খুঁজছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কা সফরে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ হিসেবে খালেদ মাহমুদ সুজন দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু সেখানে ৩ ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার লজ্জা নিয়ে ফিরতে হয়েছে ওয়ানডেতে গত কয়েক বছরে দারুণ দল হয়ে উঠেও হঠাৎ ব্যর্থতার ঘূর্ণিপাকে পড়ে যাওয়া বাংলাদেশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত