কাশ্মীরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানাল এইচআরডব্লিউ

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৯, ১০:৩৮ পিএম

কাশ্মীর যেন আবারও অশান্ত হয়ে না ওঠে তা নিশ্চিত করতে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

কাশ্মীরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি নিবন্ধে এমন আহ্বান জানান সংগঠনটির দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি।

সোমবার এইচআরডব্লিও ওয়েবসাইটে নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়। এর মাধ্যমে ভূস্বর্গ বলে বিবেচিত কাশ্মীরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

৫ আগস্ট সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে ভারতের রাজ্যসভা। এর আগে সেখানে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর সামরিক পরিস্থিতি জারি করা হয়। বন্ধ রাখা হয় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট। গত নয় দিন ধরে কাশ্মীরের সঙ্গে পুরো পৃথিবীর যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন।

নিবন্ধটি মীনাক্ষী লিখেন, “ভারত সরকার জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করেছে এক সপ্তাহ হয়ে গেল। কাশ্মীর এখনো নিরাপত্তার বলয়ে বন্দি। তাদের প্রধান নেতারা কারাবন্দী হয়ে আছেন। মোবাইল নেটওয়ার্ক,ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ঈদের দিন কাশ্মীরিরা তাদের প্রধান মসজিদে নামাজও আদায় করতে পারেননি। মানুষ তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা করতে পারেনি। হাসপাতালে রোগীরা পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা পায়নি।”

রাজ্যসভার এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কাশ্মীরি জনগণের বিক্ষোভ এবং তাদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্যাতনের বিষয়টিও নিবন্ধে উঠে আসে।

এ প্রসঙ্গে মীনাক্ষী বলেন, প্রতিবাদরত মানুষদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে কিছু বিক্ষোভকারীকে, এমন খবরও সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। যদিও ভারত সরকার এসব অস্বীকার করেছে।

সংকটপূর্ণ অঞ্চলটির ইতিহাস টেনে তিনি আরও বলেন,  “১৯৪৭ থেকে কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তান দুই দেশেই বিচ্ছিন্নতাবাদীরা তৎপর। ৮০-র দশকের শেষের দিকে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরে পাকিস্তান সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আন্দোলনে অনেক মানুষের প্রাণ গেছে। গুম, নির্যাতন ও হত্যার মাধ্যমে এসব আন্দোলনের জবাব দিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী । ফলে  এই অঞ্চলে আর কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘন কাম্য নয়।”

আরও প্রাণহানি রক্ষার স্বার্থে সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে তুলতে ভারত সরকারকে আহ্বান জানান মীনাক্ষী।

তিনি বলেন, “ভারত সরকারের উচিত বন্দি রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি দেওয়া, সেখানে বিভিন্ন দমনমূলক আইন বাতিল করা, চেকপোস্টে কাশ্মীরিদের প্রতি নিপীড়নমূলক আচরণ বন্ধ করা। সেই সঙ্গে নিরাপত্তার কারণে বিভিন্ন সময়ে যেসব মুসলিম ও হিন্দুরা অঞ্চলটি ছেড়ে যায়, তাদের ফিরিয়ে আনা।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত