জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে চীন ও পাকিস্তানের অনুরোধে শুক্রবার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল।
এনডিটিভি জানায়, পাকিস্তানের পর চীনের অনুরোধে সাড়া দিয়ে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদার এই বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়।
বুধবার এই ইস্যুটি নিয়ে বৈঠক করা যায় কিনা পোল্যান্ডে নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্ট জোয়ানা রোনেক্কার কার্যালয়ে আলোচনা হয়। তারপরেই শুক্রবার এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেয় জাতিসঙ্গ।
নিরাপত্তা পরিষদের এক কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকটির কোনো সরাসরি সম্প্রচার হবে না এবং কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিকেও বৈঠক চলাকালীন ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়ায় হবে না। চূড়ান্ত গোপনীয়তা রক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বৈঠকটির বিষয়ে।
সংকটপূর্ণ কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দ্বন্দ্ব নিরসনে নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনায় কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত ও তার বাস্তবায়ন কার্যত সম্ভব নয় বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ১৫ সদস্যের এই পরিষদের প্রভাবশালী দুই সদস্য চীন পাকিস্তানকে এবং যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে সমর্থন জানাবে, এমনটাই মনে করে হচ্ছে।
এর আগে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতারেস জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানকে কোনো ধরনের সংঘাতে না জড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। ভারত নিয়ন্ত্রিত কঠোর সামরিক পরিস্থিতিতে জনজীবনে কড়াকড়ি আরোপের খবরে তিনি উদ্বিগ্ন বলেও জানান।
প্রসঙ্গত, ৫ আগস্ট সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে জম্মু-কাশ্মীরকে কেন্দ্র শাসিত রাজ্য ঘোষণা করে বিজেপি সরকার। এর আগের দিন থেকে অঞ্চলটিতে ইতিহাসের কঠোরতম নিরাপত্তা পরিস্থিতি জারি করা হয়। মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত ৩৫ হাজার সেনাসদস্য।
কারফিউ জারি করে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। মোবাইল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট সার্ভিসসহ সব ধরনের টেলিযোগাযোগও বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। গত ১২ দিন ধরে কাশ্মীরের সঙ্গে পুরো পৃথিবীর যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন।
বিশেষ মর্যাদা বাতিলের আগের রাত থেকে ৪০০ রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার করে নিরাপত্তা বাহিনী। দুই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এবং ওমর আবদুল্লাহকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
এখনো কাশ্মীর রাস্তায়, অলিগলিতে অবস্থান করে আছে ৫০ হাজার সেনা।
কাশ্মীরকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর ৯ আগস্ট শুক্রবার হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ প্রকাশ করার একটি ভিডিও ফুটেজ বিবিসি’র হাতে আসে, যেটিকে ভারত সরকার দাবি করে যে সেরকম কোনো বিক্ষোভ আসলে হয়নি।
১০ আগস্ট ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষে থেকে টুইট করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই ভিডিওগুলোকে অতিরঞ্জিত বলা হলেও পরদিন আরেকটি টুইটে শ্রীনগরের সাওরা অঞ্চলে হওয়া বিক্ষোভের বিষয়টি স্বীকার করা হয়।
সোমবার ঈদের দিন বন্ধ রাখা হয় অধিকাংশ মসজিদ। ছোট ছোট কয়েকটি মসজিদ ছাড়াও কোথাও ঈদের জামাতের অনুমতি মেলেনি। হয়নি কোরবানি পশু বেচাকেনা। কোরবানি দিতে না পেরে আরও বেশি ক্ষুব্ধ কাশ্মীরিরা। ফলে ঈদের দিনেও রাস্তায় নেমে আসে বিক্ষোভকারীরা। তাদের ওপরে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায় বলেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করে।
এ দিকে বুধবার ভারত শাসিত কাশ্মীরের পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে দশদিন আগে কাশ্মীরের ওপর আরোপ করা ব্যাপক নিরাপত্তা কড়াকড়ি জম্মু থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে।
তবে কাশ্মীর উপত্যকায় অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই কড়াকড়ি আরোপিত থাকবে।
