জাতিসংঘের দূত থেকে প্রিয়াঙ্কাকে অপসারণের দাবি পাকিস্তানের

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৯, ০৯:৪১ পিএম

কয়েকদিন আগেই লস অ্যাঞ্জেলসের বিউটিকন ফেস্টিভ্যালের মঞ্চে এক পাকিস্তানী নাগরিকের প্রশ্নের উত্তরে পালটা দেশভক্তির জবাব দিয়ে দেশবাসীর মন জয় করেছিলেন দেশি গার্ল প্রিয়াঙ্কা।

পাকিস্তানের উপর পরমাণু হামলা বিষয়ে তর্কে জড়িয়েছিলেন এই বলিউড অভিনেত্রী। সেই ঘটনার জেরেই পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশনের পক্ষে এবার ভারতীয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কাকে জাতিসংঘের দূতের পদ থেকে সরানোর দাবি উঠল।

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জাতিসংঘের বিশ্ব শান্তি দূত। আর এই বিষয়টিতেই আপত্তি তুলেছে পাকিস্তান সরকার। পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশনের পক্ষে জাতিসংঘের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন পাকমন্ত্রী শিরিন মাজারি। প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে শুভেচ্ছা দূতের পদ থেকে সরানোর দাবি জানানো হয় চিঠিতে।

তাদের মতে, একজন শান্তির দূতের যেরকম আচরণ করা উচিত প্রিয়াঙ্কা তার অন্যথা করেছেন। পরমাণু হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি মোটেই শান্তির দূতের মতো আচরণ করেননি।

জাতিসংঘে পাঠানো চিঠিতে লেখা, ‘শ্রীমতি প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার সাম্প্রতিক মন্তব্যের উপর আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। যাকে আপনারা জাতিসংঘের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে নিযুক্ত করেছেন। বিজেপি সরকারের কাজকর্ম একেবারে নাৎসি মতাদর্শের মতো। ৩৭০ ধারা বিলুপ্তিতে ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে কাশ্মীরি মুসলমানদের জাতিগতভাবে নির্মূলকরণের কাজ চলছে। আর প্রিয়াঙ্কা চোপড়া এই ভারত সরকারের এহেন কার্যকলাপকেই মহিমান্বিত করে তুলে ধরে বীরত্ব প্রদর্শন করছেন। এমনকী, পাকিস্তানকে দেওয়া ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পরমাণু হুমকিকেও সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। যা একজন শুভেচ্ছা দূতের আচরণ হওয়া উচিত নয়। তাই অবিলম্বে তাকে জাতিসংঘের শুভেচ্ছা দূতের পদ থেকে অপসারন না করা হলে, বিশ্বব্যাপী এই পদের গুরুত্ব ক্ষুণ্ণ হবে এবং তা একপ্রকার বিদ্রূপ হয়ে উঠবে সবার কাছে।’

সম্প্রতি, এক পাক নারী প্রিয়াঙ্কার উদ্দেশে সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেছিলেন, ‘জাতিসংঘের শান্তির দূত হিসেবে আপনি মঞ্চে বসে পাকিস্তানে পরমাণু হামলার কথা বলছেন! এছাড়া অবশ্য আপনার আর কিছুই করার নেই। আমরা আপনার অবস্থা বুঝতে পারছি। এটাই আপনার ব্যবসা।’

ধৈর্য না হারিয়ে দৃঢ়ভাবে অভিনেত্রী বলেছিলেন, ‘পাকিস্তানে আমার প্রচুর বন্ধু রয়েছেন। যুদ্ধ কোনও সমস্যার সমাধান নয়। আমিও যুদ্ধের পক্ষপাতী নই। কিন্তু সবার আগে আমি ভারতীয়। এবং বড় দেশভক্ত। নিশ্চয়ই এর কোনও না কোনও সমাধান সূত্র বেরোবে। আমরা ততদিন অবশ্যই ধৈর্য ধরব। কারণ, আমরা সবাই যুদ্ধ নয় শান্তি, ঘৃণা নয় ভালবাসার পক্ষে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত