কিনেই নষ্ট কোটি টাকার খেলনা

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৯, ১২:০৯ এএম

বিভাগীয় শহর হলেও শিশুদের বিনোদনের জায়গার বড্ড অভাব রাজশাহীতে। দুটি পার্ক থাকলেও সেখানে নেই শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত খেলনা। শহীদ জিয়া শিশুপার্ক ও রাজশাহী শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় শিশুদের বিনোদনের জন্য কিছু খেলনা থাকলেও সেগুলোর বেশির ভাগই এখন আর সচল নেই। কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার শিশু কর্নারে কোটি টাকা খরচ করে বসানো খেলনাগুলো কয়েক বছরের মধ্যেই নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যদিকে শহীদ জিয়া শিশুপার্কের বেশির ভাগ খেলনা বহুদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে থাকলেও সেগুলো সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই।

নগরীর বাসিন্দারা দেশ রূপান্তরকে জানান, বিনোদনের জায়গার অভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এখানকার শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ। ঘরের কোনেই তারা খুঁজে বেড়াচ্ছে চিত্তবিনোদন। ঝুঁকে পড়ছে মোবাইলে গেমস খেলার দিকে, আবার কারও কারও সময় কাটে টেলিভিশনে কার্টুন দেখে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিশুদের চিত্রবিনোদনের জন্য ২০১৩ সালে রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকায় কেনা হয় ৫ সেট রাইড। এসব খেলনার মধ্যে ছিল সিøপার, প্রজাপতি রাইড, গোল ঘূর্ণি ও সাইকেল রাইড। একসঙ্গে প্রায় ৫০ শিশুর খেলার ব্যবস্থা ছিল এসব রাইডে। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরেই ভেঙেচুরে একাকার অবস্থা এসব খেলনার।

সম্প্রতি বাবার সঙ্গে কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসেছিল নগরীর চন্দ্রিমা এলাকার শিশু নাজনিন আক্তার। তখন সেখানে শিশুদের বিনোদনের সামগ্রীর দুরবস্থা নিয়ে এই প্রতিবেদকের কাছে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় সে। নাজনিন বলে, ‘এত্ত বড় পার্কে বাচ্চাদের জন্য যে কয়টা খেলনা ছিল তার সবগুলোই অকেজো। তাহলে আমরা এখানে এলাম কেন? খেলনাগুলো ঠিক থাকলে একটু সময় হলেও মজা করতে পারতাম। ২-৩ বছর আগেও আমি এগুলোতে চড়েছি, অথচ এখন সব কটাই ভাঙাচোরা।

সেখানে কথা হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা জাকির হোসেনের সঙ্গে। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘বাচ্চাদের নিয়ে সবাই শুধু মুখেই বলেন, অনেক ভাবি। আসলে কেউই কিছু ভাবে না। না হলে প্রায় দুই বছর ধরে এসব খেলনা নষ্ট, অথচ ভালো করার বা নতুন খেলনা দেওয়ার কোনো উদ্যোগই দেখি না।’

একই জায়গায় ছেলেমেয়ে নিয়ে ঘুরতে আসা রুনা লায়লা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখানে তো খেলার কিছুই নেই। সব ভাঙা। খেলনাগুলো ভালো থাকলে আরও ভালোভাবে বাচ্চারা খেলতে পারত। মজাও পেত।’

শিশুদের চিত্রবিনোদনের সামগ্রীর বেহাল অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার তত্ত্বাবধায়ক মাহবুবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এগুলো ঠিক করা হবে। এরই মধ্যে বিষয়টি প্রকৌশল বিভাগকে জানানো হয়েছে।’ অন্যদিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, ‘বিষয়টি আমিও জানি। খুব শিগগির এগুলো মেরামত করা হবে।’

রাজশাহী নগরীর বড় বনগ্রাম এলাকায় ১২ দশমিক ২১ একর জায়গাজুড়ে তৈরি করা হয়েছে পূর্ণাঙ্গ একটি শিশুপার্ক। ২০০৬ সালে চালু করা এই পার্কটির নাম দেওয়া হয় শহীদ জিয়া শিশুপার্ক। প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই পার্কে শুরুতে মেরি গো রাউন্ড, মিনি রেলকার, মনোরেল স্কাই বাইক, ফ্লুম রাইডস, অক্টোপাস, সুপার সুইং, বাম্পার কার, বাম্পার বোট, কিডি রাইডস, ফিজিওলজিক্যাল গেমস, থ্রিডি মুভি থিয়েটার, প্যাডেল বোট, বাউন্সি ক্যাসেল, হর্স রাইড, ফ্রগ জাম্প, হানি সুইং, প্যারাট্রুপার, টি কাপ ও ব্যাটারি কার চালু করা হয়। ঢাকার ডমেস্টিক ইলেকট্রিক টেকনোলজিক্যাল সার্ভিসেস পার্কটি পরিচালনা করে আসছে। তবে দিন যত যাচ্ছে এখানে শিশুদের বিনোদনের সুবিধা ততই কমছে। এখানকার বেশির ভাগ রাইডেরই এখন লক্কড়ঝক্কড় অবস্থা। কোনো রকমে জোড়াতালি দিয়ে চলছে। পার্কের মূল আর্কষণ বাম্পার কার, ফুলম রাইট, বাম্পার বোট, ব্যাটারি কার, বড় বাউন্স টিকার ও হর্স রাইট প্রায় ৭ বছর থেকে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। এগুলো সংস্কারের কোনো উদ্যোগই নেই। পার্কে বেড়াতে আসা শিশু ও অভিভাবকরা বলছেন, আগের মতো আর মজা পাওয়া যায় না। এখানে শিশুকিশোরদের জন্য বড় যে রাইড ছিল তার একটিও চালু নেই। পার্কটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানও এসব সংকটের কথা স্বীকার করেছে।

ডমেস্টিক ইলেকট্রিক টেকনোলজিক্যাল সার্ভিসেসের স্বত্বাধিকারী মামুন পারভেজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই পার্কটির সংস্কার না করায় বিনোদন কিছুটা কমেছে এ কথা সত্য। বাচ্চাদের সব থেকে পছন্দের খেলনা বাম্পার কার ও বোট নিয়ে অনেক উঁচুতে উঠে বোট নিয়ে নিচে পানিতে পড়ার মজার খেলনা ফুলম রাইডস এখন পুরোপুরি নষ্ট। এ ছাড়া আরও ৫-৬টি খেলনা কখনো বন্ধ থাকে, আবার কখনো চালু করা যায়। এসব সমস্যার কথা রাজশাহী সিটি করপোরেশন কর্র্তৃপক্ষকে বহুবার জানানো হয়েছে। কিন্তু এর কোনো সমাধান হয়নি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত