সাড়ে তিন বছরের শিশুটির নাম মেহনাজ তাবাসসুম। শুক্রবার সকালে দাদার সঙ্গে স্কুল থেকে ফিরছিল সে। বাড়ির কাছে নাতনিকে ছেড়ে দিয়ে স্থানীয় চায়ের দোকানে গিয়ে বসেন দাদা। তখনই রাস্তার ওপরে চলে আসা মেহনাজের বাঁ-পায়ের ওপর দিয়ে চলে যায় লরির চাকা।
এরপর বাড়ির কাছেই একটি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাটের মেহনাজকে কলকাতার ন্যাশনাল মেডিকেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
আনন্দবাজার জানায়, একের পর এক হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে ঘুরতে শেষ পর্যন্ত ট্রলিতেই মৃত্যু হয় মেহনাজের।
পুলিশ জানায়, শিশুটিকে প্রথমে বসিরহাটের মিনাখাঁ গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে কলকাতা ন্যাশনাল মেডিকেলে পাঠানো হয়। তাকে শেষে ভর্তি নেয় নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। শিশুটি মারা গেছে বলে শনিবার ভোরে জানায় পুলিশ।
পরিবারের অভিযোগ, একের পর এক হাসপাতাল ভর্তি নিতে না চাওয়ায় শিশুটিকে নিয়ে তাদের সরকারি হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়েছে।
মেহনাজের চাচা জাহাঙ্গীর মোল্লার অভিযোগ, ‘ন্যাশনাল মেডিকেলের চিকিৎসকেরা আমাদের মেয়ের পায়ের রক্তাক্ত ব্যান্ডেজটায় হাতও লাগাতে চাননি। আমাদেরই ব্যান্ডেজ খুলে দেখাতে বলা হয়।’
শিশুর বাবা শরিফুল ইসলাম মোল্লার অভিযোগ, ন্যাশনাল মেডিকেলেও মেহনাজকে ফেলে রাখা হয়। তার পরে বলা হয় এনআরএসে নিয়ে যেতে।
জাহাঙ্গীরের ভাষ্য, ‘এনআরএসে গিয়েও একই অবস্থা হয়। এক বিল্ডিং থেকে আর এক বিল্ডিংয়ে ঘোরানো হয়। একটা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালের সামনের বড় রাস্তা পার করে অন্য দিকে যেতে হয়। তখন মেয়েটার পা থেকে সমানে রক্ত ঝরছে। মেয়েটার ওই অবস্থা দেখেও ভর্তি নিতে চাইছিল না ওরা।’
অনেক অনুরোধের পরে রাতের মতো এনআরএসে একটি ট্রলিতে মেহনাজকে রাখার ব্যবস্থা হয় বলে দাবি তার পরিবারের। ভোরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
ন্যাশনাল মেডিকেল এবং এনআরএস- দুই হাসপাতালের বিরুদ্ধেই কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে পুলিশের দ্বারস্থ হয় মেহনাজের পরিবার। তাদের দাবি, পুলিশের তরফে বলা হয়, আগে দাফন সম্পন্ন হোক। তার পরে অভিযোগ নেওয়া হবে।
ন্যাশনাল মেডিকেলের সুপার সন্দীপ ঘোষকে আনন্দবাজারের প্রতিবেদক বারবার ফোন করলেও তিনি ধরেননি। এনআরএসের সুপার সৌরভ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘শয্যা ফাঁকা না থাকলে অনেক সময়ে বাধ্য হয়ে ট্রলিতেই রোগীদের ভর্তি নিতে হয়।’
কিন্তু রোগী আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকলেও কি অন্য ব্যবস্থা নেই- এ প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি তিনি।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের স্বাস্থ্য-শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশিস ভট্টাচার্য বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’
রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অজয় চক্রবর্তী অবশ্য বললেন, ‘হাসপাতালগুলোকে এভাবে রেফার না করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কী হয়েছে তা খতিয়ে দেখছি।’
