জাবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে বিক্ষোভ

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০১৯, ০৬:৩৬ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ফারাজানা ইসলাম ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। রোববার দুপুর ২টায় উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রকল্পের টাকা ‘ভাগাভাগির’ অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ তিন দফা দাবি আদায়ে মিছিল ও সমাবেশ করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ থেকে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের কয়েকটি ভবন ও প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুরাদ চত্বরে সমাবেশের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়।

মিছিল শেষে সমাবেশে বক্তারা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের পাশে তিনটি হল স্থানান্তর করে নতুন জায়গায় দ্রুত নির্মাণ শুরুসহ উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রকল্পের টাকা দুর্নীতির বিচারবিভাগীয় তদন্ত নিশ্চিত এবং টেন্ডার ছিনতাইকারীকে বিচারের আওতায় এনে প্রকল্পের সব ব্যয়ের হিসাব প্রকাশের দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন করতে গেলে উপাচার্যকর্তৃক সাংবাদিক লাঞ্ছনার নিন্দা জানান বক্তারা।

উপাচার্যসহ তার পরিবার প্রকল্পের দুর্নীতিতে জড়িত অভিযোগ করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মাদ দিদার বলেন, ‘আমরা পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছি, এ দুর্নীতিতে স্বয়ং উপাচার্য এবং তার ছেলে-স্বামী জড়িত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বারবার নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। এবার উপাচার্য ও তার পরিবার যে জনসাধারণের টাকা লুটপাট করতে নেমেছেন তা বন্ধ করতে আমরাও রুখে দাঁড়াব।’

সমাবেশে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মাথা হলেন উপাচার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানের বিরুদ্ধে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। আমরা এর বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি। সাংবাদিকরা যখন অর্থ কেলেঙ্কারির তথ্য তুলে ধরলেন, তখন উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করলাম উপাচার্য সাংবাদিকদের কণ্ঠ রোধ করতে চেয়েছেন। আমরা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, হুমকি-ধমকি দিয়ে আপনারা কারো কণ্ঠ রোধ করতে পারবেন না।’

নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, ‘ছাত্রছাত্রীদের কাজ চোর ধরে বেড়ান না। তেমনি শিক্ষকদের কাজ চুরিতে সহযোগিতা করা না। শুরু থেকে এই মাস্টারপ্ল্যান নামক জিনিসটা নিয়ে লুকোচুরি চলছে এবং নানা পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাধারণের মতকে উপেক্ষা করে অস্বচ্ছ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসা এবং খরচের পাঁয়তারা করছে।’

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামিমা সুলতানা, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সদস্য রাকিবুল রনি, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার ও সংরক্ষণ পরিষদের জাবি শাখার সমন্বয়ক আবু সাইদ প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত