সংসদ সদস্য হিসেবে পূর্বাচলে ১০ কাঠার প্লট চেয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে করা আবেদন ভাইরাল হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপি রুমিন ফারহানা।
রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বক্তব্যে তিনি এ জন্য সাবেক অর্থমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য আবুল মাল আবদুল মুহিতের ‘অনৈতিক সুবিধা’ চাপা দিতে সরকার তার আবেদন ভাইরাল করেছে বলে অভিযোগ জানান।
লিখিত বক্তব্যে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি এখন চ্যালেঞ্জ করব- যতজন এমপি অ্যাপ্লিকেশন করেছেন, সব প্রকাশ করা হোক। রুমিন কেনো একলা?’
গণমাধ্যমে পাঠানো লিখিত বক্তব্যে রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য রাষ্ট্র থেকে জায়গার জন্য অ্যাপ্লাই করতে পারেন সেই সুযোগ তার আছে। তিনি একটি ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি আনতে পারেন সেই সুযোগ তার আছে। তিনি বেতন-ভাতা পান এবং তিনি পাঁচ বছরের জন্য একটা অ্যাপার্টমেন্ট পান- এই চারটি জিনিস হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সুযোগ। এই রাষ্ট্রীয় সুযোগ যিনি সংসদ সদস্য হবেন তিনিই রাষ্ট্র থেকে পাবেন। সেই সুবাদে আমি একটি আবেদনপত্র দিয়েছি। শুধু আমি একা নই, অন্তত তিন শ থেকে সাড়ে তিন শ এমপি অ্যাপ্লিকেশন দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হলো- আমার চিঠিটা মন্ত্রণালয় থেকে বেরোল কী করে? যেখানে আমার ব্যক্তিগত টেলিফোন নম্বর দেওয়া আছে? আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আমি এই সরকারের কাছ থেকে এক সুতা জমিও আশা করি না, আমি চিন্তাও করি না। এটা একটি প্রসিডিউর, একটি ফরমালিটিজ যেটা সব এমপি করেছেন, আমিও করেছি।’
রুমিন বলেন, ‘এই চিঠি আমি ড্রাফটও করিনি, আমার পিএস ড্রাফট করে দিয়ে দিয়েছে। সব পিএসরা যখন তাদের এমপিদের চিঠি ড্রাফট করেছে, আমার পিএসও ড্রাফট করে দিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমার চিঠিটা কেন ভাইরাল হলো? এটা ভাইরাল কেন হলো তার উত্তর আমি নিজেই দিচ্ছি।’
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘গত দু’দিন আগে আবুল মাল আবদুল মুহিত (সাবেক অর্থমন্ত্রী) কোনো পদে না থাকা অবস্থায় শুল্কমুক্ত গাড়ি এনেছিলেন। সরকার তার সেই নোংরামি ও অসততাকে চাপা দেওয়ার জন্য আমার যে বৈধ অ্যাপ্লিকেশন সেটা নোংরাভাবে পাবলিক করেছে। একটা সরকারি নথি কখন পাবলিক হয় যখন সেখানে সরকারের মদদ থাকে।’
তিনি বলেন, ‘এই সরকার আমাদের ফোনে আড়ি পাতে, এই সরকার আমাদের ফেসবুক হ্যাক করে, এই সরকার আমাদের সমস্ত গোপন নথি ইচ্ছে করে প্রকাশ করে। যারাই সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলবে, যারাই সরকারের কাজের সমালোচনা করবে, যারাই সরকারকে সঠিক পথে আনবার জন্য যা যা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার সে বিষয়ে কথা বলবে এবং সরকারের মনমতো কথা না বলবে তাদের ব্যাপারে সরকারের একধরনের চেষ্টা থাকে তাদের হিউমিলেটেড করা বা তাদের কোনো না কোনোভাবে ম্যালাইন করা।’
তিনি বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হলো আমার চিঠিটা কি অবৈধ? কোন আইনে অবৈধ? এটা কি অনৈতিক কোনো আইনে অনৈতিক? এটা তো রাষ্ট্রীয় চিঠি। আমি তো সরকারের কাছ থেকে কিছুই চাইনি। আমার বেতনটা যেমন রাষ্ট্রীয়, আমার এই অ্যাপ্লিকেশনও রাষ্ট্রীয়।
‘এই সরকার যে অবৈধ এটা এখন বলছি, আগেও বলেছি- এটা সম্পূর্ণ অবৈধ সরকার। এটা জনগণের ভোট ছাড়া নির্বাচিত সরকার। এই সরকার সব অর্থে অবৈধ সরকার। আমি সরকারের কাছে কোনো কিছু চাইনি। আমি রাষ্ট্রীয় সুযোগ চেয়েছি। এটা তারা (সরকার) করেছে আবুল মাল আবদুল মুহিতকে যে অবৈধ ও অনৈতিক সুবিধা দিয়েছে ওইটাকে চাপা দেওয়ার জন্য, জনদৃষ্টিকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার জন্য। যাতে মানুষের দৃষ্টি অন্য দিকে যায়।’
একাদশ জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ায় দুই মাসের মধ্যে সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বরাবর আবেদনে ১০ কাঠার একটি প্লট চেয়েছেন বিএনপির সাংসদ রুমিন ফারহানা। আবেদনে তিনি বলেছেন, ঢাকায় তার কোনো জমি বা ফ্ল্যাট নেই। ওকালতির বাইরে তার কোনো পেশা বা ব্যবসা নেই। সরকার প্লট দিলে ‘চিরকৃতজ্ঞ’ থাকবেন বলেও উল্লেখ করেছেন বিএনপি থেকে মনোনীত সংরক্ষিত নারী আসনের এই সাংসদ।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম গণমাধ্যমকে জানান, প্লট চেয়ে সাংসদ রুমিন ফারহানার একটি আবেদন তিনি পেয়েছেন। আইন অনুযায়ী এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, রুমিন ফারহানা গত ৯ জুন সাংসদ হিসেবে শপথ নেন। আর প্লটের জন্য আবেদন করেন ৩ আগস্ট।
এদিকে, রুমিন ফারহানার প্লট চাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। সংসদকে ‘অবৈধ’ বলে আসা এবং বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচক হিসেবে রুমিন ফারহানা পরিচিত।
