২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ‘বর্ধিত ফি ও সান্ধ্যকোর্স’ বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর অস্ত্রসহ হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় সব আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী মহানগর অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক এনায়েত কবির সরকার আসামিদের দোষ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস দিয়ে এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সিরাজী শওকত সালেহীন বলেন, ‘মামলার দুর্বল সাক্ষীর কারণে সকল আসামি বেকসুর খালাস পেয়েছে। বাদী পক্ষের ২২ জন সাক্ষী ছিলেন। তার মধ্যে শুধু এক বাদী মামলার পক্ষে সাক্ষী দিয়েছেন। বাকি ২১ জনই মামলার পক্ষে আদালতে শক্তভাবে সাক্ষী দিতে পারেন নি। এজন্য আদালতের বিচারক চার্জশিটে অভিযুক্তদের খালাস দিয়েছেন।’
জানা যায়, ২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বর্ধিত ফি ও সান্ধ্যকালীন কোর্স বাতিল দাবিতে আন্দোলনকারী কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর ওপর ওই দিন ছাত্রলীগ ও পুলিশ অতর্কিত হামলা চালায়। এতে অর্ধশত শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। হামলার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ কিছু শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবন, একাডেমিক ভবন ও আবাসিক হলে ভাঙচুর চালায়।
ঘটনার পরদিন মতিহার থানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ ও ছাত্রলীগ পৃথকভাবে দু’টি করে ৬টি মামলা দায়ের করে। মামলায় ১০৫ জনের নাম উল্লেখসহ ৪৭৫ জনকে আসামি করা হয়। পরে ছাত্রলীগ তাদের দু’টি মামলা তুলে নেয়।
তবে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়েরকৃত দু’টি করে চারটি মামলার তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৭ মে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল হান্নান আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
চার্জশিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ১৬ নেতাকর্মী, রাবি শাখা ছাত্র শিবিরের তৎকালীন সভাপতি আশরাফুল আলম ইমন ও ছাত্রলীগের তৎকালীন সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ডিলস এবং সাধারণ শিক্ষার্থীসহ ৩৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
পরে ২৯ মে আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন। মামলায় বাদী পক্ষে ২২ জন সাক্ষ্য দেন। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মঙ্গলবার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
