রোকেয়া হল প্রাধ্যক্ষ-ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ২১ লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:২৯ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বেগম রোকেয়া হল সংসদ ও ছাত্রলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে প্রাধ্যক্ষের সহযোগিতায় ২১ লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ এনেছেন একই হলের কিছু আবাসিক শিক্ষার্থী।

ছাত্রলীগের নিয়োগ বাণিজ্যের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করায় এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগও করেছে তারা।

মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযোগ করেন  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্রী শ্রবণী শফিক দীপ্তি । অন্য অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা হলেন, সায়েদা আফরিন শাফি, জয়ন্তী রেজা। সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি আবু রায়হান খান ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাগিব নাইম উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের পর একটি বিক্ষোভ মিছিল করে  এই শিক্ষার্থীরা। 

সংবাদ সম্মেলনে দীপ্তি বলেন, আমি রোকেয়া হলের আবাসিক ছাত্রী। কয়েক দিন আগে হলে এক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখতে পাই। এতে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে ৪টি পোস্টে ৮ জন কর্মচারী নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়। আমি হলের এক দাদুর (কর্মচারী)  মাধ্যমে জানতে পারি রোকেয়া হল সংসদের ভিপি ইশরাত জাহান তন্বী ৮ লাখ টাকার বিনিময়ে কর্মচারী কামাল উদ্দীনের ছেলে কামরুজ্জামানকে নিয়োগ দিচ্ছে; জিএস সায়মা আক্তার প্রমি ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে মালি চৌহানের ছেলে পলাশ চৌহানকে নিয়োগ দিচ্ছে; হল ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বিএম লিপি ও সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী দিশা মিলে ৮ লাখ টাকার বিনিময়ে একজন নিরাপত্তা প্রহরীকে নিয়োগ দিচ্ছে। আর এতে ভাগ বাঁটোয়ারা না পেয়ে হল সংসদের এজিএস ফাল্গুনী তন্বী ক্ষুব্ধ হয়।

হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জিনাত হুদা এসব ঘটনা সম্পর্কে অবহিত এবং তিনি এই নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত আছেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

হল সংসদের এজিএস ফাল্গুনী তন্বী কোনো ভাগ না পাওয়ায় তার মাধ্যমেই এই তথ্য ফাঁস হয়েছে দাবি করেন অভিযোগকারীরা। হলের এক কর্মচারী ও এজিএস ফাল্গুনীর মধ্যেকার কয়েকটি অডিও কল রেকর্ডের ক্লিপ অভিযোগকারীদের কাছে রয়েছে। এসব অডিও ক্লিপের মধ্যে টাকা লেনদেনের প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

উল্লেখ্য, গত ৩১ আগস্ট শ্রবণী শফিক দীপ্তি তার ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে হলের নিয়োগে লেনদেন বাণিজ্যের অভিযোগ এনে একটি পোস্ট করেন। পোস্টটি আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে হল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে সোমবার অভিযোগকারী দীপ্তিকে নোটিশ পাঠিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে হল প্রাধ্যক্ষ অফিসে উপস্থিত হয়ে তার বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দীপ্তি আরও বলেন, এ খবর আমি ফেসবুকে পোস্ট করার পর তা জানাজানি হয়ে গেলে গতকাল ২ সেপ্টেম্বর আমাকে একটি নোটিশ পাঠিয়ে আমাকে মঙ্গলবার হল প্রাধ্যক্ষ অফিসে তদন্ত করার নামে ডাকা হয়। সেখানে আমি উপস্থিত হলে হল প্রভোস্ট, ডাকসু ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক বিএম লিপি আক্তার, ভিপি তন্বী, জিএস প্রমি, এজিএস তন্বী ও শ্রাবণী দিশা আমাকে বিভিন্ন গালাগালি ও হুমকি দেয়। হলের প্রভোস্টও তাদের সাথে এক হয়ে আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে, তদন্তে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ প্রমাণিত হলে হল সংসদ বাতিল করার দাবি জানান তিনি। এছাড়া হল সংসদের ভিপি-জিএস সহ সকল অভিযুক্ত এবং হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবি জানান শ্রবণী শফিক দীপ্তি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জিনাত হুদাকে মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে হল সংসদের ভিপি-জিএসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অভিযোগ অস্বীকার করেন তারা।

এদিকে রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বিএম লিপি আখতার বলেন, 'দীপ্তি সব সময় ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কথা বলে এটা সবাই জানে। সে আমার বিরুদ্ধে, আমার হলের সেক্রেটারির, হল সংসদের ভিপি-জিএসের বিরুদ্ধে এবং প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিল। এজন্য আজকে মিটিং ডেকে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। সে বলেছে, চতুর্থ শ্রেণির একজন কর্মচারী তাকে এ বিষয়ে তথ্য দিয়েছে। কোন কর্মচারী নাম জানতে চাইলে সে নাম বলেনি।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত