ইরানি তেলের ট্যাংকার আটক করতে ক্যাপ্টেনকে ঘুষ সাধা হয়েছিল বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই মন্ত্রণালয় ইরান অ্যাকশন গ্রুপের প্রধান ব্রায়ান হুক ইমেইলের মাধ্যমে ক্যাপ্টেনকে প্রস্তাবটি দেন। সেখানে জানান, আদ্রিয়ান দারিয়া ওয়ানকে যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ করার মতো সুবিধাজনক স্থানে যেন নোঙর করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে ট্যাংকারটি সিরিয়ার জন্য তেল পরিবহন করছে। এই অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র জুলাইয়ে জিব্রলটারে জাহাজটি আটকে রাখে। কিন্তু ইরান গন্তব্য সম্পর্কে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে আদালত ট্যাংকারটি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
এরপর আদ্রিয়ানকে জব্দ করতে ওয়ারেন্ট জারি করে যুক্তরাষ্ট্রে বিচার বিভাগ।
ক্যাপ্টেনকে টাকার দেওয়ার প্রস্তাব বিষয়টি বুধবার প্রকাশ করে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। পরে বিষয়টি নিশ্চিত করে স্বরাষ্ট্র বিভাগ।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ট্যাংকারটিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, জাহাজটি ২১ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করছে। যা যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের আর্থিক সুবিধার সঙ্গে সম্পর্কিত।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগেই আদ্রিয়ান দারিয়া ওয়ানের ভারতীয় ক্যাপ্টেন অখিলেশ কুমারকে ইমেইল করেন হুক।
সেখানে ‘সুখবর’ উল্লেখ করে জানানো হয়, জাহাজটি জব্দ করার সুবিধার বিনিময়ে ট্রাম্প প্রশাসন অখিলেশকে কয়েক লাখ ডলার দিতে চায়। ওই বার্তায় স্বরাষ্ট্র বিভাগের ফোন নম্বর দেওয়া ছিল, যাতে ভুয়া মনে করা না হয়।
কিন্তু অখিলেশ বার্তাটিকে পাত্তা দেননি। এরপরই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
টুইটারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘সরাসরি ঘুষ’ সাধার অভিযোগ এনেছেন।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের তেল বিক্রির শিপিং নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত করায় সাহায্য করলে দেড় কোটি ডলার দেওয়া হবে বলেও জানায়।
