ব্রিটেনের আফিম বাণিজ্যে ‘নিঃস্ব’ হয় ভারতের কৃষক

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:৫৯ এএম

অমিতাভ ঘোষের ‘সি অব পপিজ’ নামের নন্দিত উপন্যাসে আফিমবীজের সঙ্গে ভারতের আফিম উৎপাদনকারী একটি অঞ্চলের গ্রামের নারীর মুখোমুখি অবস্থার প্রাণবন্ত বর্ণনা এসেছে। উপন্যাসের একটি অংশে ওই নারীর অনুভূতি প্রসঙ্গে বলা হয়, ‘তিনি (আফিম) বীজের দিকে এমনভাবে তাকালেন যে, এর আগে এমনটি কখনো দেখেননি এবং হঠাৎ করে তিনি জানলেন যে, এর ওপরে যে গ্রহ আছে, সেটা তার জীবন নিয়ন্ত্রণ করে না; এটা ছিল অতি ক্ষুদ্র গোলক, যেটা একই সঙ্গে সুন্দর ও গ্রাসকারী, সদয় ও বিধ্বংসী এবং টেকসই ও প্রতিহিংসাপরায়ণ।’

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, যে সময়ে উপন্যাসটি লেখা হয়, তখন উত্তর ভারতের ১৩ লাখ কৃষকের বাড়িতে উঠত আফিমগাছ। উনিশ শতকের শেষের দিকে আফিম চাষের প্রভাব ছিল বর্তমান উত্তর প্রদেশ ও বিহার রাজ্যের এক কোটি মানুষের জীবনে। গঙ্গা নদীতীরবর্তী দুটি আফিম কারখানায় কয়েক হাজার শ্রমিক বীজ থেকে দুধালো তরল বের করত। পরবর্তী সময়ে তারা সে উপাদান থেকে কেক বানাত। একই সঙ্গে আফিমের বলগুলোকে প্যাকেটজাত করে কাঠের বক্সে রাখত।

এ বাণিজ্যে যুক্ত ছিল যুক্তরাজ্যের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। শক্তিশালী বহুজাতিক করপোরেশনটি রাজকীয় ফরমান পেয়ে এশিয়ার সঙ্গে একচ্ছত্র বাণিজ্যের সুযোগ পেয়েছিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নিয়ে লেখা ‘দ্য এনার্কি’ নামের বইয়ের লেখক ইতিহাসবেত্তা উইলিয়াম ডালরিম্পল বলেন, কোম্পানিটি চীনে আফিম ফেরি করত। তারা হংকংয়ে সমুদ্র তীরবর্তী একটি ঘাঁটি দখলে নিতে এবং মাদকবাণিজ্যে লাভজনক আধিপত্য ধরে রাখতে একাধিক আফিমযুদ্ধে লিপ্ত হয়।

কিছু ইতিহাসবিদের যুক্তি, আফিমের কারবারে ভারতের গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হয়েছে, যাতে খুশি হয়েছেন কৃষক। কিন্তু ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের অধ্যাপক রলফ বয়ারের নতুন এক গবেষণা বলছে, বিষয়টি তা নয়। এর উপসংহারে বলা হয়, আফিম কারবার ব্যাপকমাত্রায় শোষণমূলক এবং এটি ভারতের কৃষকদের নিঃস্ব করে। তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘যথেষ্ট ক্ষতি করে আফিম চাষ হয়েছে। এই কৃষকরা এটি (আফিম চাষ) ছাড়া অনেক ভালো থাকতেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত