ঠাকুরগাঁও বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে চিকিৎসক নেই

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:৫৫ পিএম

ঠাকুরগাঁও বক্ষব্যাধি ক্লিনিকটি কার্যত ধুকে ধুকে চলছে। চিকিৎসক না থাকায় সদর হাসপাতালের একজন চিকিৎসক এখানে দায়িত্বে রয়েছেন। বক্ষব্যাধি হাসপাতালটি প্রধানত যক্ষ্মারোগী শনাক্ত ও চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকে। রোগী শনাক্ত করার জন্য এক্স-রে মেশিন অপরিহার্য। সেই এক্স-রে মেশিনটি নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে অনেক দিন হলো।

এই ক্লিনিকের দায়িত্বে রয়েছেন ডা. শুভেন্দু কুমার দেবনাথ। তিনি জানান, বর্তমানে রোগীদের অনেক দূরে সরকারপাড়ায় অবস্থিত ব্র্যাক অফিসে গিয়ে বুকের এক্স-রে করে আনতে হয়। তবে বক্ষব্যাধি ক্লিনিকটিতে জিন এক্সপার্ট মেশিন রয়েছে বলে জানান তিনি। ক্লিনিকে কফ ও এমটি (টিবি) পরীক্ষা করা হয়। প্যাথোলজিক্যাল কোনো পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই এখানে।

ক্লিনিকের নথি অনুযায়ী, এই জেলায় যক্ষ্মারোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। ১ জানুয়ারি থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮ মাসে এখানে ৪ হাজার ৭৫৭ জন নতুন রোগী তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে যক্ষ্মারোগী শনাক্ত হয়েছে ৬৬ জন। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০ জন রোগী আসছে এখানে, যা রীতিমতো উদ্বেগজনক।

সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে কোনো চিকিৎসক না থাকায় সদর হাসপাতালের ডা. শুভেন্দু কুমার দেবনাথকে বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

শুভেন্দু কুমার দেবনাথ আরও বলেন, এখানে আর কোনো চিকিৎসক নেই। এখানে মেডিকেল অফিসার ও কনসালট্যান্ট দুটি পদ রয়েছে। তা ছাড়া এখানে নৈশপ্রহরী নেই। নৈশপ্রহরীর পদও নেই, লোকও নেই। রাতে অরক্ষিত থাকে এই ক্লিনিক। সব গ্রামে ছড়িয়ে আছে যক্ষ্মা রোগী। শত শত যক্ষ্মারোগী রয়েছে চিকিৎসাসেবার বাইরে। কিন্তু নেই কোনো মাঠপর্যায়ের লোক। সহকারী নার্স ও ফার্মাসিস্ট পদ আছে কিন্তু লোক নেই।

তিনি আরও জানান, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় জেলার একমাত্র বক্ষব্যাধি ক্লিনিকটি ১৯৬৩-৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটিকে ৩১ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতালে রূপান্তর করার জন্য ২০০৭ সালে একটি প্রস্তাব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু আজও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের খবর জানা যায়নি। তিনি জানান, এই ক্লিনিকের মোট জমির পরিমাণ ৩.৩৯ একর। কিন্তু ২৯ শতক জমি বেদখল হয়ে গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত