জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কাউন্সিলে আদালত কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার জন্য সরকারকে দুষলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিএনপিকে রাজনীতি করতে দেওয়া হচ্ছে না।
ড. মোশাররফ বলেন, ‘আমরা জেলা-উপজেলা পর্যায়ে আমাদের দলকে সুসংগঠিত করছি। এজন্য যে কাউন্সিল করা দরকার সেই কাউন্সিল করতে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তাতে বাধা দিচ্ছে সরকার।’
‘আপনারা দেখেছেন, ছাত্রদলের যে কাউন্সিল হওয়ার কথা ছিল (শনিবার), সেটাতেও কোর্ট থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে’ যোগ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, বয়সসীমা সংক্রান্ত বিধান চ্যালেঞ্জ করে বিদায়ী কমিটির সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আমানুল্লাহর আবেদনের প্রেক্ষিতে ছাত্রদলের কাউন্সিল ও নির্বাচনে নিষেধাজ্ঞা দেয় ঢাকার ৪র্থ সহকারী জজ আদালত।
স্বাধীনতা ফোরামের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ড. মোশাররফ বলেন, ‘খালেদা জিয়া এদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্বৈরশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। খালেদা জিয়া এদেশের গণতন্ত্রের প্রতীক। কিন্তু এই সরকার তাকে হীন উদ্দেশ্যে কারাগারে বন্দি করে রেখেছে।’
তিনি বলেন, ‘আজকে ক্ষমতায় থাকা এই আওয়ামী লীগ ১৯৭৫ সালে গণতন্ত্রকে হত্যা করে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু জিয়াউর রহমান বাকশালের পরিবর্তে বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। যখন জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন, তখন এই দেশে আওয়ামী লীগের অস্তিত্বই ছিল না।’
‘তারা (আওয়ামী লীগ) গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। এজন্যই ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ২৯ ডিসেম্বর রাতেই ভোট ডাকাতি হয়ে গেছে। গণতন্ত্রের কথা শুনলে আওয়ামী লীগের গায়ে জ্বালা ওঠে’ যোগ করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ এ নেতা।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে এসময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আসলাম, তাঁতি দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির, কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লায়ন মিয়া মো.আনোয়ার ও এম জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
