দ্বিতীয় সন্তানও কন্যা হওয়ায় সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে নয় মাস বয়সী শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ডোবার পানিতে ফেলে দিয়েছেন পাষণ্ড বাবা।
শুক্রবার সকালে বেলকুচি উপজেলার পৌর সদরের মুকন্দগাতি পশ্চিমপাড়ায় মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটেছে।
বাবা তাঁত শ্রমিক বদিউজ্জামানের (৩০) হাতে শিশুকন্যা সুমাইয়া খাতুনের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বেলকুচি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সাত বছর আগে বদিউজ্জামানের সঙ্গে পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের সিকান্দার আলীর মেয়ে সুন্দরী খাতুনের (২৪) বিয়ে হয়।
কয়েক বছর আগে তাদের ঘর একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। এতে বদিউজ্জামানসহ তার পরিবারের লোকজন চরম নাখোশ হয়। এরপর একটি ছেলে সন্তানের আশায় তারা আবারও সন্তান নেন।
কিন্তু দ্বিতীয় সন্তান সুমাইয়ার জন্মের পর প্রায়ই স্ত্রী সুন্দরী খাতুনকে মারধর ও শিশু সুমাইয়াকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন বদিউজ্জামান।
শুক্রবার সকালে শিশুটির মা রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকার সুযোগে নয় মাসের সুমাইয়াকে শ্বাসরোধে হত্যার পর বাড়ির পাশের ডোবায় ফেলে দেয় পাষণ্ড বাবা। পরে ডোবার পানিতে সুমাইয়ার লাশ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা দেখে পুলিশে খবর দেয়।
বেলকুচি থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি জানান, নিহত শিশুর মা সুন্দরী খাতুন বাদী হয়ে বদিউজ্জামানকে একমাত্র আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে ঘাতক বদিউজ্জামান পলাতক রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, বদিউজ্জামানকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমে কাজ শুরু করেছে। বিভিন্ন স্থানে পুলিশের অভিযান চলছে। আশা করছি, অচিরেই তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।
