প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যের ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’ দিয়ে কলকাতার সিনেমায় অভিষেক হচ্ছে জ্যোতিকা জ্যোতির। স্থানীয় আনন্দবাজার পত্রিকাকে ঢাকার এই অভিনেত্রী জানালেন, নারী শিল্পী হিসেবে কলকাতায় সম্মান বেশি।
ছবিতে জ্যোতির বিপরীতে আছেন ঋত্বিক চক্রবর্তী। আরও আছেন রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়।
জ্যোতিকার চোখে টলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি অনেক বেশি পেশাদার। জানালেন, নারী শিল্পী হিসেবে ঢাকার তুলনায় কলকাতায় কাজ করতে বেশি স্বচ্ছন্দবোধ করেছেন। বলেন, ‘‘এখানে সকলেই পড়াশোনা জানা। টাইম ও শিডিউল মেনটেইন করে চলা হয়। নারী শিল্পী হিসেবে সম্মানও এখানে বেশি।’’
কলকাতার অভিষেক ছবির জন্য উচ্চারণে মনোযোগ ও ক্ল্যাসিক্যাল নাচের তালিমও নিয়েছেন তিনি। লোকজনের আচার-ব্যবহার, চলাফেরা খুঁটিয়ে লক্ষ্য করতেন। পরিচালকের নির্দেশ মতো বাসে-ট্রামে যাতায়াত করতেন।
ঋত্বিককে নিয়ে নায়িকার উচ্ছ্বাসের শেষ নেই। এক প্রশ্নের উত্তরে হেসে জ্যোতিকা বলেন, ‘‘প্রথমবার ঋত্বিকদাকে দেখে আকাশ থেকে পড়েছিলাম। একজন অত বড় তারকা কী করে এতটা সিম্পল হতে পারেন! কোনো ইগো নেই।’’
ছবির কথাবার্তা শুরু হওয়ার পরে ঋত্বিকই তাকে ফেইসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিলেন। প্রথমটায় বিশ্বাসই করতে পারেননি জ্যোতিকা। জিজ্ঞেস করেছিলেন, “এটা কি আপনার আসল আইডি?” জবাব এসেছিল, “নকলরাও তো নিজেদের অরিজিনালই বলে!”
পরিচালক প্রদীপ্তের সঙ্গে জ্যোতিকার পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন পরিচালক সঞ্জয় নাগের ভাই সুজয় নাগ। কলকাতা বইমেলায় মিটিং করে তাকে রাজলক্ষ্মীর জন্য চূড়ান্ত করে ফেলেন।
ছবিতে দেখানো হয়েছে, রাজলক্ষ্মীর ছোটবেলা কেটেছে বাংলাদেশে। জ্যোতিকাকে এই চরিত্রে পছন্দ করার অন্যতম কারণ সেটাও। রাজলক্ষ্মীর জন্য গত দেড় বছর ধরে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন জ্যোতিকা, ‘‘একটু বেশিই সিরিয়াস হয়ে এই কাজটা করেছি। প্রথমত, এ দেশে আমার প্রথম কাজ এটা। দ্বিতীয়ত, বিপরীতে ঋত্বিকদা।’’
কাজের সূত্রে কলকাতায় শিফট করার পরিকল্পনা রয়েছে? ‘‘কাজ করার জন্য শিফট করতেই হবে, এমন নয়। কলকাতায় মামাবাড়ির সাপোর্ট পাই। যেটা প্রথম দিকে বাংলাদেশে পাইনি’’, বললেন জ্যোতিকা।
