আপত্তি সত্ত্বেও বেতন থেকে স্বাস্থ্যবিমার টাকা কেটে নেওয়ার অভিযোগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির দুজন শিক্ষক।
গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল হাই ও পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম সিলেট জজ আদালতে পৃথকভাবে মামলা দুইটি দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন শাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার, কোষাধ্যক্ষ, হিসাব পরিচালক ও প্রগতি লাইফ ইনস্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
মঙ্গলবার মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদী পক্ষের আইনজীবী এ এইচ ইরশাদুল হক জানান, আপত্তি সত্ত্বেও বেতনের টাকা থেকে স্বাস্থ্যবিমা বাবদ প্রতি মাসে ২৭১ টাকা কেটে নেওয়ার অভিযোগে মামলা দুইটি দায়ের করেছেন দুই শিক্ষক।
মামলার ব্যাপারে বাদী অধ্যাপক ড. আব্দুল হাই বলেন, ‘কারও সম্মতি ছাড়া বিমার মতো একটা খাতে বেতন থেকে টাকা কেটে নেওয়া কোনোভাবেই আইনসম্মত নয়। তাই এখন পর্যন্ত কেটে নেওয়া সব টাকা ফেরত চেয়েও আমি মামলায় আবেদন জানিয়েছি।’
অপর মামলার বাদী ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিমায় অন্তর্ভুক্তির জন্য যে ফরম দেওয়া হয়েছিল তা পূরণ না করা সত্ত্বেও একরকম জোর করে বিমার টাকা বেতন থেকে কেটে নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে চিঠি দিলেও কোন কাজ হয়নি। তাই মামলা করেছি।’
শাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেন বলেন, ‘মামলার বিষয়ে আমরা জানি না। লোকমুখে শুনেছি, তবে এখনো কোন কাগজপত্র পাইনি। পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিমার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিমা শিক্ষকদের বহু দিনের দাবি। এ ব্যাপারে সিন্ডিকেটেরও নির্দেশনা ছিল। তবে মামলার বাদীদের বিষয়টি পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপন করা যেতো। কিন্তু তার আগেই তারা কোর্টে চলে গেলেন।’
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘যেহেতু তারা কোর্টে মামলা করেছেন, এ বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করব না। আইনিভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করা হবে।’
উল্লেখ্য, গত ৭ ফেব্রুয়ারি শাবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ ও প্রগতি লাইফ ইনস্যুরেন্স লিমিটেড এর মধ্যে স্বাস্থ্যবিমা সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী কিস্তির অর্ধেক টাকা পরিশোধ হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে এবং বাকি অর্ধেক পরিশোধ করবেন শিক্ষকেরা।
