আমরা বাঁচতে চাই, আমাদেরও বাঁচার অধিকার আছে: কাশ্মীরি নেতার আকুলতা

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৭:৩৯ পিএম

কাশ্মীরের মানুষকে বাঁচতে দিতে ভারতবাসীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন অঞ্চলটির সিপিআই (এম) নেতা মোহাম্মদ ইউসুফ তারিগামি। দেশের সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরাও বাঁচতে চাই। আমাদেরও বাঁচার অধিকার আছে।’

ভারতের সংবাদমাধ্যম গণশক্তি জানায়, মঙ্গলবার সিপিআই (এম) কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর একে গোপালন ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন পার্টি সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি এবং ইউসুফ তারিগামি।

বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর জম্মু-কাশ্মীরের অবরুদ্ধ পরিস্থিতি ও সেখানকার মানুষের অবস্থা সম্পর্কে তুলে ধরেন কাশ্মীরি নেতা তারিগামি।

আগস্টের শুরুতে সংবিধানের ৩৭০ ধারা তুলে নিয়ে মোদি সরকার জম্মু-কাশ্মীরকে কার্যত অবরুদ্ধ ও পুরো বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে।

আবেগপ্রবণভাবে কুলগামের এই বিধায়ক বলেন, “একজন সাধারণ কাশ্মীরি আকাশের তারা চান না, স্বর্গ চান না। একসঙ্গে চলার সুযোগ চান। আমাদেরও সঙ্গে নিয়ে চলুন।’

সংবাদমাধ্যমের কাছে অনুরোধ করলেন, দেশবাসীর কাছে যথাসম্ভব এই বার্তা পৌঁছে দিন।

কাশ্মীরে কেউ মারা যায়নি বলে কেন্দ্র সরকার যে দাবি করছে, তার প্রেক্ষিতে তারিগামি জোর দিয়ে বলেন, “কাশ্মীরিরা রোজ একটু একটু করে মরেছেন।”

বিজেপিসহ সরকার সমর্থক সবার কাছে আহাজারি কণ্ঠে তার আবেদন, “আমাদের কথাও শুনুন। একতরফা বক্তব্য শুনছেন আপনারা।”

এক প্রশ্নের জবাবে তারিগামি বলেন, “মানুষের সাহায্য নিয়েই উগ্রপন্থাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। মানুষের ওপর আক্রমণ করে, তাঁদের মারধর করে, জেলে পাঠিয়ে, ইন্টারনেট-টেলিফোন বন্ধ করে, নিত্যদিনের জীবন বরবাদ করে মানুষের মধ্যে ভরসা তৈরি করা যায় না। এই পরিস্থিতি কার পক্ষে যাবে? দুশমনদের সুবিধে করবে।”

চার বারের এই বিধায়ক বলেন, “নব্বইয়ের দশকেও কাশ্মীরের অবস্থা দেখেছি। মৃত্যু দেখেছি, বিনাশ দেখেছি কিন্তু আজকের মতো অস্থিরতা হয়নি। উগ্রপন্থার আক্রমণে বন্ধু, পরিবার, পার্টির সঙ্গীদের হারিয়েছি। কিন্তু এত ভয়ংকর হতে পারে পরিস্থিতি, তা কখনো ভাবিনি।”

image

কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “এই সরকারের থেকে বিশেষ কিছুই আশা করি না। কিন্তু তারা এত বেপরোয়া হয়ে উঠবে সেটা উপলব্ধি করিনি।”

তারিগামি বলেন, “কাশ্মীরের মানুষ পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীকে রুখেছে। কাশ্মীরের নেতারা সংবিধান প্রণেতাদের সঙ্গে আলোচনা করার পর বিশেষ ব্যবস্থা হয়েছিল। কাশ্মীরের মানুষ পাকিস্তানে না গিয়ে স্থির করেছিলেন ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের সঙ্গে যুক্ত হবেন। কারও সঙ্গে কোনো আলোচনা হলো না, চর্চা হলো না, বিতর্ক হলো না। এক ঝটকায় সব শেষ করে দেওয়া হলো।”

তিনি বিজেপি সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “কাশ্মীরিদের কথাও শুনুন। আমরা নিহত হতে চাই না। ধ্বংস হতে চাই না।”

যারা কেন্দ্রের সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন, তারা পাকিস্তানকে সমর্থন করছেন- বিজেপি’র এই দাবি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তারিগামি বলেন, “ওমর আবদুল্লাহ তো বাজপেয়ি সরকারের সময়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। সব থেকে কম বয়সী বিদেশ মন্ত্রী। মেহবুবার সঙ্গে মোদিরা সরকার গড়লেন। তখন বিজেপি’র কাছে সবাই ভালো ছিলেন। এখন তাদের আটক করে রাখা হয়েছে। বন্দী করা হয়েছে।”

সীতারাম ইয়েচুরিও এই প্রসঙ্গে বলেন, “তারিগামি জম্মু-কাশ্মীরের কুলগাম থেকে চার বার বিধায়ক হয়েছেন। ২৪ বছর ধরে তিনি বিধায়ক। এমন একটা জায়গা থেকে বিধায়ক হয়েছেন, যেটা উগ্রপন্থীদের আক্রমণে সব থেকে বিপর্যস্ত এলাকা। তিনি সামনে থেকে লড়েছেন। আক্রান্ত হয়েছেন। পরিবারের সদস্য খুন হয়েছেন। সিপিআই (এম) কর্মীরা খুন হয়েছেন। কিন্তু উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে সিপিআই (এম) লাগাতার লড়াই করেছে। এটাই আমাদের অবস্থান ছিল, আছে। তাই কুলগামের মানুষ বারে বারে তারিগামিকে সমর্থন দিয়েছেন।”

এক প্রশ্নের উত্তরে ইয়েচুরি বলেছেন, “ফারুক আবদুল্লাহ তার বাবা শেখ আবদুল্লাহদের একটা ঐতিহ্য আছে। এরা পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়েছেন। উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে লড়েছেন। এখন এই সমস্ত রাজনৈতিক নেতাদের আটক করে, বন্দী করে রাখা হচ্ছে।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত