বেঞ্চের নিচে মাথা দিয়ে শাস্তিতে অসুস্থ শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের বিক্ষোভ

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৩:১১ পিএম

পড়া না পারায় শিশুদের বেঞ্চের নিচে মাথা দিয়ে শাস্তি দেওয়ার অভিযোগে মাদারীপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকাকে অপসারণে তিন দিন সময় নিলেও এখনও বিদ্যালয়ে আসছেন সেই শিক্ষিকা। এতে ভয়ে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে অভিভাবকরা স্কুল মাঠে বিক্ষোভ করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌর-পেয়ারপুর ১০৯ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আয়শা সিদ্দিকা নামে এক শিক্ষিকা শ্রেণিকক্ষে গেলে ভয়ের মধ্যে থাকতে হয় শিক্ষার্থীদের।

অনেকেই তার অমানুষিক অত্যাচারে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। তার নামে একাধিক অভিযোগ করার পরও ক্ষমতার বলে এখনো সেই বিদ্যালয়ে চাকরি করে যাচ্ছেন এবং আগের মতই শিক্ষার্থীদের অমানুষিক অত্যাচার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত শনিবার ৫ম শ্রেণির একটি ক্লাসে পড়া না পারায় ৬ জন শিক্ষার্থীকে বেঞ্চের নিচে মাথায় দিয়ে শাস্তি দেয়ায় দুইজন ছাত্রী ও একজন ছাত্রের নাক দিয়ে রক্ত চলে আসে। এরপর তাদের অভিভাবকরা বিষয়টি জানতে পেরে তাদের চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়।

এদিকে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা ক্ষিপ্ত হয়ে বিদ্যালয়টি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানালে তিনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলে তিন দিনের সময় নেন। কিন্তু তিন দিন পার হলেও সেই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন।

তৃষার মা মিলি দাস বলেন, আমার মেয়েকে পড়া না পারায় আয়শা ম্যাডাম দীর্ঘসময় বেঞ্চের নিচে মাথা দিয়ে শাস্তি দিয়েছে, এমনকি মাথা উঠাতে দেয়নি, মাথা উঠালেই স্কেল দিয়ে পিঠে আঘাত করেছে, এভাবে দীর্ঘসময় বেঞ্চের নিচে মাথা দিয়ে রাখায় নাক দিয়ে রক্ত বের হয়েছে।

ঐশি দাসের বাবা টিটু দাস বলেন, ‘এই ম্যাডাম এর আগেও বাচ্চাদের মারধর করত। আজ আমার মেয়েকে শাস্তি দেয়ার কথা বলে অমানুষিক অত্যাচার করেছে। এই ম্যাডাম স্কুলে আসলে আমি আমার সন্তানকে স্কুলে দেবো না।

আরেক অভিভাবক অভিযোগ করেন, এই ঘটনার পর বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষিকাকে পাওয়া না গেলেও বিকেলে স্কুল ছুটির কিছু সময় আগে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন তিনি। এরপর প্রধান শিক্ষিকা নাঈমা আক্তার অভিভাবকদের আশ্বাস দেন- আমি আয়শা সিদ্দিকার বিরুদ্ধে ৩দিনের মধ্যে একটি ব্যবস্থা নেব। তাকে বদলি করা হবে বলে জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোখলেসুর রহমানের জানান, অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে (আয়েশা সিদ্দিকাকে) আগামীকালের (রবিবার ১৫ সেপ্টেম্বর) মধ্যে গৌরবদ্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হবে এবং প্রধান শিক্ষিকাকে শোকজ করা হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. নাসিরউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত