পশ্চিমবঙ্গের নাম ‘বাংলা’ রাখতে আপত্তি মোদি সরকারের

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:৩২ এএম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলা’ রাখা নিয়ে ফের আপত্তি জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। নয়াদিল্লিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রীর আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, বুধবার নয়াদিল্লি সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের বাংলা নাম রাখার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা তোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা।

বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকে রাজ্যের নাম বদলের প্রসঙ্গ উঠে।

তবে এই নামের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে সদ্যপ্রয়াত সুষমা স্বরাজের একটি নোট তাকে মনে করিয়ে দেয় নয়াদিল্লি।

সুষমার ওই নোটে ছিল, পশ্চিমবঙ্গের বদলে রাজ্যের নাম বাংলা করলে আন্তর্জাতিক পরিচয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে রাজ্যের নাম গুলিয়ে যেতে পারে। তাই সেই আপত্তি উড়িয়ে দিয়ে রাজ্যের প্রস্তাবে সায় দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও দ্বিধা রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের।

নয়াদিল্লি মমতাকে জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছুদিনের মধ্যেই বিকল্প কয়েকটি নামের প্রস্তাব দেবে রাজ্যকে। তার যে কোনো একটিতে মতৈক্য হলেই রাজ্যের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা থাকবে না৷

তবে রাজ্যের নাম পরিবর্তন নিয়ে যে মমতা কোনো অনড় অবস্থান নেবেন না সেটা বুধবারই পরিষ্কার করে দিয়েছেন তিনি। তবে রাজ্য সরকারের ইচ্ছা, বাংলা যদি একান্তই না হয়, সে ক্ষেত্রে ‘বঙ্গ’ নামে রাজি হোক কেন্দ্র।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, “রাজ্যের প্রস্তাব পরিবর্তন বা পরিমার্জন করতে তার কোনো আপত্তি নেই৷ বাংলাটাকে রেখে যদি কেন্দ্রের কোনো সাজেশন থাকে, তা হলে সেটা তারা জানাতে পারেন, তাতে কোনো প্রবলেম নেই। আমরা বিধানসভায় এটা পাস করেছি। বাংলাটাকে সামনে রেখে যদি ওরা সাজেশন দিতে চান, দিতে পারেন। বাংলা নামের সঙ্গে সেন্টিমেন্ট জড়িয়ে রয়েছে।”

রাজ্যের প্রস্তাবিত নাম ‘বাংলার’ সঙ্গে কেন্দ্র যদি নতুন কোনো শব্দ যুক্ত করার পরামর্শ দেয়, তা হলে ফের বিধানসভায় সংশোধনী আনতে হতে পারে রাজ্য সরকারকে। সে ক্ষেত্রে বাম-কংগ্রেস-তৃণমূলের ঐকমত্য হবে কি না, তা একটি সংগত প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে।

তবে বিধানসভার বাম পরিষদের ভাষ্য, সরকার চাইলে এ নিয়ে ফের ঐকমত্য হওয়ার সুযোগ থাকবে। কারণ তারা ইতিবাচক মনোভাব নিয়েই চলেন।

কংগ্রেস পরিষদের মতে, কেন্দ্র কী পরামর্শ দেয়, তা নিয়ে রাজ্য সরকার নিশ্চয়ই তাদের সঙ্গে আলোচনা করবে। সবটাই নির্ভর করছে কেন্দ্রের পরামর্শ প্রথমে রাজ্যের ‘পছন্দ’ হওয়ার ওপর।

তবে বিরোধীরা যদি বেঁকেও বসে, সে ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে নতুন সংশোধনী-প্রস্তাব পাশ করাতেও সমস্যা হবে না রাজ্য সরকারের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত