জাবি শিক্ষকের যৌন হেনস্তা: আত্মহত্যা চেষ্টার পর ছাত্রীর অভিযোগ আমলে

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:৩৬ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ করেছে এক ছাত্রী।

লিখিত অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে এবং ন্যায্যবিচার পাবেন না মনে করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন অভিযোগকারী ছাত্রী।

তার আত্মহত্যা চেষ্টার পর ওই অভিযোগ আমলে নেন সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সভাপতি।

এ ঘটনায় বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও অভিযুক্ত শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক সানোয়ার সিরাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

জানা যায়, ওই ছাত্রী ১৯ সেপ্টেম্বর সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক নাসরিন সুলতানা বরাবর সানোয়ার সিরাজের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিলেও তা বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলে পাঠান তিনি।

অভিযোগে ওই ছাত্রী উল্লেখ করেন, ‘ভালো পরীক্ষা দেওয়া সত্ত্বেও তৃতীয় বর্ষে সানোয়ার সিরাজের কোর্সে কম নাম্বার পাই। আমি ওই কোর্সে মানোন্নয়ন পরীক্ষা দিতে চাই। আর এ জন্য আমি সানোয়ার সিরাজের শরণাপন্ন হই। এ সময় তিনি আমার মোবাইল নাম্বার নিয়ে রাখেন। তিনি আমাকে বলে রাখেন, যেকোনো কারণে যেন যোগাযোগ করি। গত বছরের ১২ মার্চ তিনি ফোন দিয়ে পরীক্ষা কেমন হলো জানতে চান, এরপর ওই রাতেই তিনি আবারো ফেসবুক মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করেন এবং আমার সঙ্গে ঘোরাফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেন’।

অভিযোগে ওই ছাত্রী আরো বলেন, ‘হঠাৎ তার এ ধরনের আচরণে আমি বিস্মিত হই। পরে আমি বিভাগে গিয়ে তার কাছে জানার চেষ্টা করি যে তার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছিলো কি না। কিন্তু তিনি নিশ্চিত করেন যে আইডি হ্যাক নয় বরং তিনিই এই মেসেজ দিয়েছেন’।

ওই ছাত্রী সানোয়ার সিরাজকে শিক্ষক হিসেবে এসব না বলতে অনুরোধ করেন জানিয়ে আরো বলেন, ‘আমি ধারাবাহিকভাবে তার এমন আচরণে খুব বিব্রত ছিলাম ফলে বারবার ফেসবুক আইডি ডিঅ্যাক্টিভ করেছিলাম। কিন্তু তিনি রেগুলার আমাকে উত্যক্ত করে যাচ্ছিলেন’।

অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক ওই ছাত্রীকে ‘অশালীন কথাবার্তা ও কুপ্রস্তাব দেয়’ বলে উল্লেখ করে।

ওই ছাত্রী ‘মানসিক ও শারিরীকভাবে’ অসুস্থ হয়ে একাধিক চিকিৎসকের কাছে যান বলেও জানান।

সানোয়ার সিরাজের ফেসবুক আইডি থেকে অভিযোগকারী ছাত্রীর মেসেঞ্জারে পাঠানো ক্ষুদে বার্তার স্ক্রিনশট দেশ রূপান্তরের হাতে রয়েছে।

অভিযুক্ত সানোয়ার সিরাজের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি ‘সাময়িকভাবে স্থগিত’ পাওয়া যায়।

বৃহস্পতিবার বিভাগের তার নির্ধারিত কক্ষ তালাবদ্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে অভিযোগকারী ছাত্রী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে সোমবার রাতে ২৬টি ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে সাভারের একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসকরা জানান তিনি এখন শঙ্কামুক্ত।

আত্মহত্যা চেষ্টার কারণ হিসেবে ওই ছাত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিকদের জানান, ‘মহিলা পরিষদের একটি অনুষ্ঠানে আমি আমার হয়রানির কথা জানাই। এতে বিভাগের সদ্যসাবেক সভাপতি খন্দকার শামসুন্নাহার আমাকে হুমকি দেন, প্রমাণ না দেখাতে পারলে আমার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবেন। আমি পরে তাকে কিছু বিষয় শেয়ার করি। মেসেঞ্জারের হয়রানিমূলক মেসেজগুলো দেখাই। তিনি আমাকে সহানুভূতি জানান। কিন্তু এসব ভুলে গিয়ে ক্যারিয়ারের দিকে নজর দিতে বলেন। অন্য শিক্ষকদের জানিয়েও আমি এ ব্যাপারে কোনো সহযোগিতা পাইনি। আমি আসলে আর লড়াই করতে পারছিলাম না’।

অভিযোগের ব্যাপারে সদ্য সাবেক বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার শামসুন্নাহার বলেন, ‘আমাকে কোনো ধরনের লিখিত অভিযোগ দেয়নি। আমার বিরুদ্ধে যা বলছে তা বানিয়ে বলছে। এসব মিথ্যা, বানোয়াট।’

যোগাযোগ করা হলে বিভাগের বর্তমান সভাপতি নাসরিন সুলতানা বলেন, আমি গত ১৯ তারিখ অভিযোগ পত্রটি পেয়েছি। কিন্তু তার কিছু প্রমাণপত্র আমাকে দেওয়ার কথা ছিল। পরবর্তীতে আমি বুধবার অভিযোগপত্রটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলে হস্তান্তর করি।’

যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলের প্রধান অধ্যাপক রাশেদা আখতার বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এখন এ ব্যাপারে আর কোনো মন্তব্যের সুযোগ নেই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত