গাজীপুরের শ্রীপুরের সরকারি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো এখন মাদকসেবীদের অভয়ারণ্য। চিকিৎসক সংকটের অজুহাতে বেশির ভাগ সময়ই চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকে। ফলে সন্ধ্যা হলেই কেন্দ্রগুলোর ভেতর জমে ওঠে মাদকসেবীদের আড্ডা। নানাবিধ অবহেলায় প্রান্তিক মানুষের জন্য গড়ে তোলা এসব সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রের সেবা বঞ্চিত হচ্ছে স্থানীয়রা।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দেওয়া তথ্যমতে, তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার এই উপজেলায় পাঁচটি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র ও চারটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তোলে। প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন মেডিকেল অ্যাসিসট্যান্ট, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন মিডওয়াইফ ও একজন অফিস সহায়কের পদ রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে এসব উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক যোগ না দেওয়ায় মুখ থুবড়ে পড়েছে এই কেন্দ্রগুলো। প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো খোলা রাখার সরকারি বিধান থাকার পরও অধিকাংশ সময়ই তা বন্ধ রাখা হয়। তবে সবচেয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় পড়েছে কাওরাইদ ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। কেন্দ্রটিতে চালু রাখার মতো জনবল না থাকার কারণে এ উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিণত হয়েছে মাদকসেবীসহ নানাবিধ অপরাধের আড্ডাখানায়।
সরেজমিনে সম্প্রতি কাওরাইদ উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় কেন্দ্রটি বন্ধ। কাওরাইদ এলাকার মাসুম মিয়া খিঁচুনিরত তার ছেলে ইয়াসিনকে (৮) নিয়ে আসেন কেন্দ্রটিতে। এটি বন্ধ থাকায় ছেলেকে নিয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি কয়েক বছর ধরেই বন্ধ। প্রতিদিন অনেক রোগী আসে, কিন্তু বন্ধ থাকায় আশাহত হয়ে ফিরে যায় তারা। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় সন্ধ্যার পর এর ভেতরে বসে মাদকসেবীদের আড্ডা। আর কেন্দ্রের ভেতরে চিকিৎসা দেওয়ার কক্ষগুলোতে স্থানীয়রা গবাদিপশু লালন-পালন করে সেগুলোকে গোয়ালঘরে পরিণত করেছে।
বেলদিয়া গ্রামের খোদেজা বেগম জানান, গত পাঁচ বছরের এক দিনও এই চিকিৎসাকেন্দ্রটিতে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি, মাঝেমধ্যে একজন লোক আসে আবার কিছুক্ষণ পর চলে যায়।
কাওরাইদ উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের অফিস সহায়ক আনিছুর রহমান জানান, এখানের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক প্রেষণে অন্য স্থানে চলে গেছেন। অন্যরাও আসেন না। চিকিৎসা দেওয়ার মতো এখানে আর কেউ নেই। এ সুযোগে স্থানীয়রা ভেতরে গবাদিপশু রাখেন। কেউ তার নিষেধ মানে না। আর সন্ধ্যা হলেই মাদকসেবীসহ বিভিন্ন অপরাধীরা এখানে আশ্রয় নেয়, বাধা দিলে তারা তাকে হুমকি দেয়। মাদকসেবীদের ভয়ে তটস্থ থাকতে হয় সব সময়।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাইনুল হক খান জানান, উপজেলার পাঁচটি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র ও চারটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কোনোটিতেই চিকিৎসক নেই। সবাই যোগ দিয়েই প্রেষণে চলে গেছেন। আর এ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। তবে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা কাওরাইদ উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটির, যেখানে জনবল না থাকায় অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে। সরকারি এই চিকিৎসাকেন্দ্রের ভেতরে মাদকসেবীর আড্ডা ও স্থানীয়রা গবাধিপশু রাখায় আমরা বিব্রত। এ ঘটনা একাধিকবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে উপস্থাপন করেছি।
