ইসলামোফোবিয়ার নামে বিশ্বে বিভেদ তৈরি করা হচ্ছে : ইমরান

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:৪৭ পিএম

'ইসলামোফোবিয়ার' নামে বিশ্বে বিভেদ তৈরি করা হচ্ছে অভিযোগ তুলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, 'হিজাবকে এখন অস্ত্র হিসাবে দেখানো হচ্ছে; একজন নারী তার শরীর থেকে কোনো পোশাক খুলতে সমস্য হয় না কিন্তু একটি পোশাক পরতে গেলে তাকে সমস্যায় পড়তে হয়'। 

তিনি বলেন, এর শুরু হয়েছে ৯/১১'র সময় থেকে কারণ তখন থেকে পশ্চিমারা ইসলামকে সন্ত্রাসবাদের সমার্থক হিসেবে হাজির করেছেন। 

শুক্রবার জাতিসংঘের ৭৪তম সাধারণ অধিবেশনে দেয়া ভাষণে পাক প্রধানমন্ত্রী কাশ্মীর ইস্যুটি বিশ্ব নেতাদের সামনে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। 

খবর ডন।

ইমরান খান 'উগ্র ইসলামি সন্ত্রাসবাদ' অভিধাকে প্রশ্ন করে বলেন,  'এই অভিধা আমাদের কী বার্তা দেয়? নিউইয়র্কে একজন ব্যক্তি কীভাবে মডারেট মুসলিম ও উগ্র মুসলিমকে আলাদা করেন'?

তিনি বলেন, আসলে এসব কিছু নেই, যা আছে তা হলো 'ইসলাম'।

পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু সন্ত্রাসী এসেছে কোণঠাসা হয়ে পাড়া মুসলিম সমাজ থেকে, যা আমরা মুসলিম নেতারা কখনো আমরে নেইনি। 

তিনি বলেন, সব ধর্মের মূল কথা সহনশীলতা ও ন্যায়বিচার, যা পশুদের থেকে আমাদের আলাদা করেছে।

ইমরান খান ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে মানবিক সংকট ও সেখানকার নাগরিকদের অবরুদ্ধ জীবনযাপনের বিষয়টি জাতিসংঘে উপস্থাপন করেন। 

ইমরান খান বলেন, গত ৫২ দিন ধরে ৮০ লাখ কাশ্মীরিকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ৯ লাখের বেশি সেনা মোতায়েন করে সেখানকার নাগরিকদের সঙ্গে নির্মম আচরণ করছে মোদি সরকার।

তিনি বলেন, এ সরকারের হাতেই গুজরাটে মুসলিমদের ওপর গণহত্যা পরিচালিত হয়েছে। কাশ্মীরে কারফিউ প্রত্যাহারের পর আমরা আবারও এমন একটি গণহত্যার আশঙ্কা করছি।

মুসলিম নির্যাতনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের নীরবতার সমালোচনা করে ইমরান খান বলেন, মুসলমানদের সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করে তাদের ব্যাপারে সবাই নীরব বসে থাকে। আজকে যদি ইহুদিরা এভাবে অবরুদ্ধ থাকতো, তাহলে কি বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া এমন হতো? রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানো হলো, আন্তর্জাতিক শক্তি কি ভূমিকা পালন করেছে?

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত