সাংবাদিক জামাল খাশোগির ছেলের মতে, সৌদি আরব ও দেশটির নেতৃত্বকে খাটো করার জন্য তার বাবার মৃত্যুকে ব্যবহার করেছে শত্রুরা। আরব নিউজ জানায়, সোমবার টুইটারে এমনটা বলেন সালাহ খাশোগি।
আরও জানান, সৌদি বিচার ব্যবস্থার প্রতি তার আস্থা রয়েছে।
সালাহ লেখেন, “দেশের বিরোধী ও শত্রুরা আমার বাবার মৃত্যুর কারণকে আমার দেশ ও নেতৃত্বকে খাটো করার জন্য ব্যবহার করেছে।”
এক বছর আগে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে জামালকে হত্যা করা হয়। সালাহের মতে, এই ঘটনার সুযোগ নিচ্ছে পূর্ব-পশ্চিমের সব বিরোধীরা।
আরও জানান, তার বাবা জীবনের কখনোই দেশের ক্ষতি সহ্য করেননি। তার স্মৃতি বা মৃত্যু থেকে কেউ সুবিধা নিলে তা মেনে নেবেন না।
জামাল খাশোগির হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে সৌদি বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আছে- বলেও উল্লেখ করেন সালাহ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় টিভি প্রোগ্রাম সিক্সটি মিনিটসে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সম্প্রতি জানান, যেহেতু তার দায়িত্বের অধীনেই সৌদি সরকারের কিছু লোক এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, এ জন্য পুরোপুরি দায়ও তার।
মিডল ইস্ট আই জানায়, খাশোগি হত্যাকাণ্ডের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ধারণকৃত ওই টিভি প্রোগ্রামে এ নিয়ে কথা বলেন সৌদি যুবরাজ।
তবে খাশোগিকে হত্যাকাণ্ডের নির্দেশের বিষয়টি তিনি আবারও অস্বীকার করেন।
রবিবার সন্ধ্যায় প্রচারিত ওই সাক্ষাৎকারে সৌদি যুবরাজ বলেন, “যদি আমাকে অভিযুক্ত করা যায় এমন কোনো তথ্য থাকে তাহলে সেটি প্রকাশ্যে আনা হোক।”
তুরস্কের তদন্তে এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী হিসেবে শুরুতেই নাম উঠে আসে সৌদি যুবরাজের। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর প্রতিবেদনেও ওঠে আসে, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান জড়িত। তার নির্দেশেই খাশোগিকে হত্যা করা হয়। তখনো এই অভিযোগ অস্বীকার করেন সৌদি যুবরাজ।
২ অক্টোবর খাশোগি হত্যাকাণ্ডের এক বছর পূরণ হবে। এ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের পিভিএস চ্যানেলের একটি ডকুমেন্টারিতেও সৌদি যুবরাজ বলেন, ‘এটা আমার দায়িত্বের অধীনে হয়েছিল। এ হত্যাকাণ্ডের সব দায় আমার।’
সৌদি যুবরাজের কড়া সমালোচক ছিলেন ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট খাশোগি। বিয়ের কাগজপত্রের জন্য তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে গেলে সেখানে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি।
এমনকি তার দেহ কেটে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয় এবং গোপন জায়গা তা সরিয়ে ফেলা হয় বলেও সে প্রতিবেদনে ওঠে আসে।
রিয়াদ থেকে যাওয়া ১৫ সদস্যের একটি ডেথ স্কোয়াড খাশোগিকে হত্যা করে। তবে সৌদি যুবরাজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে রিয়াদ জানায়, বিপথগামী কিছু এজেন্ট এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। পরবর্তীতে এ বছরের শুরুতে ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সৌদি সরকার।
