রূপগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়ির ট্রাঙ্কে মিলল ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০১৯, ১২:০৪ পিএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নগদ এক কোটি পঁচিশ লাখ টাকা ও দুই হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় বাড়ির মালিক কয়েল ব্যবসায়ী জামাল হোসেন মৃধা ও তার দুই সহযোগীকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বুধবার ভোরে উপজেলার তারাবো পৌরসভার রসুলপুর এলাকায় ওই ব্যবসায়ীর নিজ বাড়ি থেকে তিনজনকে আটক করা হয়। আটক অপর দুইজন হলেন- জামাল হোসেনের দুই সহযোগী মোস্তফা ও মানিক।

জেলা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. মিজান দেশ রূপান্তরকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জানতে পারে স্থানীয় কয়েল ব্যবসায়ী জামাল হোসেন মৃধার বাড়িতে এক লাখ পিস ইয়াবার একটি চালান প্রবেশ করবে। এরপর গোয়েন্দা পুলিশ মঙ্গলবার বিকেল থেকে ওই এলাকায় নজরদারি শুরু করে। মধ্যরাত থেকে জামাল হোসেন মৃধার চার তলা বাড়ির তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালায়।

এ সময় একটি ট্রাঙ্ক থেকে নগদ এক কোটি টাকা এবং আলমারির ভেতর থেকে আরও পঁচিশ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। একই সাথে বাড়িটির নিচ তলায় জামাল হোসেনের ব্যক্তিগত অফিস থেকে দুই হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

খবর পেয়ে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ ভোরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

জেলা পুলিশ সুপার হারুন গণমাধ্যমকে জানান, গ্রেপ্তার ব্যবসায়ী জামাল হোসেন মৃধা নিজেকে তিনটি কয়েল কারখানার মালিক দাবি করলেও এর কোনো বৈধ লাইসেন্স দেখাতে পারেননি।

জব্দকৃত টাকার বৈধ কোনো উৎসও দেখাতে পারেননি তিনি। এই টাকাগুলো হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করার জন্য রাখা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া কয়েল ব্যবসার আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছে বলেও সন্দেহ রয়েছে। তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

পুলিশ সুপার জানান, আটকদের বিরুদ্ধে বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগে মানি লন্ডারিং আইনে, ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এবং আবাসিক এলাকায় কয়েল কারখানা নির্মাণ করে পরিবেশ দূষণের অপরাধে পরিবেশ আইনে মোট তিনটি মামলা দায়ের করা হবে।

পাশাপাশি জামাল হোসেন বাড়িতে এতো টাকা কি কারণে রেখেছেন, ইয়াবা ব্যবসা করে কতো টাকার মালিক হয়েছেন এবং তিনি কোনো জঙ্গি সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত আছেন কিনা সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।

এদিকে স্থানীয়রা জানায়, জামাল ও মোস্তফার বাড়ি বরিশাল জেলার উজিরপুর থানার ধাসুরা এলাকায়। আট বছর আগে তারা রূপগঞ্জের তারাবো রসুলপুর এলাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করেন। তারা অবৈধ কয়েল কারখানা ও গরুর খামারের আড়ালে ইয়াবার ব্যবসা করে আসছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত