মহাসপ্তমী উদ্‌যাপিত, রবিবার মহাষ্টমীতে কুমারী পূজা

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৩৪ পিএম

চণ্ডীপাঠ বোধন ও দেবীর অধিবাসের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সব থেকে বড় উৎসব দুর্গা পূজা। ষষ্ঠীপূজার পর দিনে থেকে মন্দিরে মন্দিরে বেড়েছে ভক্ত কূলের ভিড়। পাশাপাশি বাজছে ঢাক ঢোল। রবিবার দুর্গা পূজার মূল আকর্ষণ মহাষ্টমী। এদিন মণ্ডপে মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে কুমারী পূজা।

শনিবার সরেজমিনে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রমনা কালী মন্দির ও বনানী মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, সপ্তমীতেই উৎসবের রং লেগেছে। মণ্ডপগুলোতে দেখা যায় নানা বয়সী পূজারি আর ভক্তদের ভিড়। সকাল থেকেই শুরু হয় সপ্তমী পূজার আনুষ্ঠানিকতা। শুরুতেই বিশেষ রীতি মেনে স্নান করানো হয় মা দুর্গাকে। মা দুর্গার প্রতিবিম্ব আয়নায় ফেলে বিশেষ ধর্মীয় রীতিতে স্নান সেরে, বস্ত্র ও নানা উপাচারে মায়ের পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দেবীর তৃতীয় চক্ষুদান করা হয়। নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন শেষে দেবীর সপ্তমী বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দেবীর পায়ে ফুলের অঞ্জলি দিয়ে চরণামৃত পান করে দিন শুরু করেন ভক্তরা।

জানতে চাইলে গুলশানের বাসিন্দা সুদীপ সাহা বলেন, একটু আগে মায়ের অঞ্জলি শেষ হলো, এখন মন্দির ঘোরার পালা। অন্যান্য দিনগুলোর তুলনায় সপ্তমীর দিন পূজামণ্ডপগুলোতে তুলনামূলকভাবে ভিড় কম থাকে। যার কারণে আজ আমি পরিবারসহ সকাল সকাল বেরিয়ে পড়েছি। যতগুলো মন্দির দেখা সম্ভব সব আজ তা দেখে ফেলব।

গুলশান–বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সুধাংশু কুমার দাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের এই পূজা ফাউন্ডেশনের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা ধরনের আয়োজন। পাশাপাশি থাকছে ভক্ত কূলের আরাধনার ব্যবস্থা।

তিনি আরও বলেন, আমরা মন্দির কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি আমাদের এই আয়োজনকে সাফল্য মণ্ডিত করতে আশা করছি ভক্তকুল ও আমাদের সহায়তা করবে।     

অষ্টমীর সকালে দুর্গা দেবীর মহাষ্টমী বিহিত পূজা প্রশস্তা ও ব্রতোপবাস ও পুষ্পাঞ্জলি হবে। একই সঙ্গে কুমারী বালিকার মধ্যে শুদ্ধ নারীর রূপ কল্পনা করে তাকে দেবী জ্ঞানে পূজা করবেন ভক্তরা। রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠসহ দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে এ পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে, সাধারণত ১ থেকে ১৬ বছরের অজাত পুষ্প সুলক্ষণা ব্রাহ্মণ বা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কুমারীকে দেবী জ্ঞানে পূজা করার বিধান রয়েছে। কুমারী পূজার বিষয়ে শ্রী রাম কৃষ্ণের কথামৃতে বলা হয়েছে, শুদ্ধাত্মা কুমারীতে ভগবতীর রূপ বেশি প্রকাশ পায় এবং মাতৃরূপ উপলব্ধি করাই কুমারী পূজার উদ্দেশ্য।

নির্বাচিত কুমারীকে মহাষ্টমীর দিন প্রভাতে স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পড়ানো হয়। তার কপালে সিঁদুর ও পায়ে আলতা দিয়ে হাতে দেওয়া হয় ফুল। কুমারীকে সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে পূজা করা হয়। এ সময় চারদিকে শঙ্খ, ঢাকের আওয়াজ, উলধ্বনি আর দেবী স্তুতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পূজা মণ্ডপ। 

বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের হিসেবে এ বছর রাজধানীসহ সারা দেশে ৩১ হাজার ৩৯৮টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পূজামণ্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত