১২ অক্টোবর থেকে যশোরে শুরু হচ্ছে তৃতীয় আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব। উৎসবে ভারত ও বাংলাদেশের আটটি খ্যাতনামা নাট্যদল তাদের নাটক মঞ্চস্থ করবে।
নাট্যোৎসব উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বিষয়টি জানিয়েছে আয়োজক নাট্য সংগঠন বিবর্তন যশোর।
উৎসব কমিটির আহ্বায়ক ও বিবর্তন যশোরের সভাপতি সানোয়ার আলম খান দুলু গতকাল (৮ অক্টোবর) দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘দ্রোহ, প্রেম ও ঐতিহ্যের- স্বপ্নযাত্রায় বিবর্তন যশোর ৩০ বছরে পদার্পণ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় তারা যশোরে তৃতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবের আয়োজন করেছে।’
তিনি জানান, কলকাতার টালিউডপাড়ার অঞ্জনা বসু, বিপ্লব বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবশঙ্কর হালদার ও চৈতী ঘোষালের মতো জনপ্রিয় তারকারা নাট্যমঞ্চ মাতাতে যশোরে আসছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা অনন্ত হীরা, রমিজ রাজু, নুনা আফরোজ ও লিয়াকত আলী লাকীও থাকছেন এতে।
যশোর জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মঞ্চে সাত দিনব্যাপী নাট্যোৎসব বিবর্তনের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উৎসব কমিটির উপদেষ্টা ও শিল্পকলা অ্যাকাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, বিবর্তনের উপদেষ্টা অর্চনা বিশ্বাস, উৎসব কমিটির সদস্য সচিব ও বিবর্তন যশোরের সাধারণ সম্পাদক আতিকুজ্জামান রনি, অনুষ্ঠান উপ-কমিটির আহ্বায়ক এইচ আর তুহিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জানানো হয়, উৎসবের প্রথম দিন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় মঞ্চ আলোকিত করবে ঢাকার জনপ্রিয় লোক নাট্যদল। ‘আমরা তিনজন’ নাটক নিয়ে দলটি মঞ্চে মাতাবে। বুদ্ধদেব বসুর গল্প অবলম্বনে এই নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন লিয়াকত আলী লাকী।
দ্বিতীয় দিন সন্ধ্যায় আয়োজক সংগঠন বিবর্তন যশোর মঞ্চস্থ করবে পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের সাংস্কৃতিক জীবনধারা নিয়ে নির্মিত নাটক-মাতব্রিং। সাধনা আহমেদের রচনায় এ নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক ইউসুফ হাসান অর্ক।
তৃতীয় দিন সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হবে ঢাকার জনপ্রিয় নাট্যদল প্রাঙ্গণে মোরের নাটক ‘ঈর্ষা’। সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের রচনায় এ নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন জনপ্রিয় টেলিভিশন ও মঞ্চ অভিনেতা অনন্ত হীরা।
চতুর্থ দিন চুয়াডাঙ্গার অনির্বাণ থিয়েটার মঞ্চস্থ করবে ‘জিষ্ণুযারা’। এ নাটকের নির্দেশনা ও মঞ্চ পরিকল্পনায় রয়েছেন আনোয়ার হোসেন।
পঞ্চম দিন প্রাচ্য কলকাতার নাটক- ‘খেলাঘর’। হেনরিক ইবসেনের ‘এ ডলস হাউস’ গল্প অবলম্বনে খেলাঘরের নাট্যরূপ দিয়েছেন রতন কুমার দাস। নির্দেশনা দিয়েছেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা বিপ্লব বন্দ্যোপাধ্যায়।
ষষ্ঠ দিন পশ্চিমবঙ্গের ঋত্বিক বহরামপুর নিয়ে আসছে গ্রামীণ জীবনযাত্রার ওপর নির্মিত কাব্য গীতিনাট্য ‘চম্পাবতী’। কবি জসীমউদদীনের ‘বেদের মেয়ে’ অবলম্বনে সৈয়দ শামসুল হক এই নাটকের নাট্যরূপ দিয়েছেন। মঞ্চভাবনা ও নির্দেশনায় আছেন বিপ্লব দে।
সমাপনী দিনে পর পর দুটি নাটক মঞ্চস্থ হবে। প্রথমে মঞ্চস্থ হবে অঙ্গন বেলঘড়িয়ার নাটক ‘ফিরে পাওয়া’। যার নাট্যকার বেবি সেনগুপ্ত। আলোক পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন অভি সেনগুপ্ত। এরপর মঞ্চে আসবে ‘যুগের যাত্রী চন্দননগর’র নাটক ‘চাঁদ সওদাগর’। শঙ্কর বসু ঠাকুরের রচনায় রামকৃষ্ণ মণ্ডল এ নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন।
আটটি নাটকের জন্যে টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ও ৫০০ টাকা। এ ছাড়া প্রতিদিনের টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ ও ১০০ টাকা।
