‘রোহিঙ্গা প্রশ্নে প্রতিবেশীরাও বাংলাদেশকে সমর্থন দিচ্ছে না’

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৯, ০৬:১৬ পিএম

রোহিঙ্গা সংকটের মূল হোতা মিয়ানমার সরকার ও তার সেনাবাহিনীকে আন্তর্জাতিক মহল এড়িয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ব্র্যাকের ‘সেন্টার ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস’ মনে করে- সংকট সমাধানের দায় একতরফাভাবে বাংলাদেশকে দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রভাবশালী দেশগুলো রোহিঙ্গা প্রশ্নে মিয়ানমারের পক্ষে। যার প্রমাণ জাতিসংঘে এ বিষয়ে ভোটাভুটিতে ভারতসহ বেশির ভাগ দেশ বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেয়নি। মূলত ভূ-রাজনীতির কারণেই দেশগুলোর এমন আচরণ।

শনিবার রাজধানীর মহাখালীতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে ‘রোহিঙ্গাদের জন্য সুবিচার ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সভা পূর্ব এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়।

আগামী ১৮ অক্টোবর নেদারল্যান্ডসের হেগে ওই সভাটি অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ব্র্যাকের সহ-আয়োজক এশিয়া জাস্টিস কোয়ালিশন ও ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল স্টাডিজ। পররাষ্ট্রসচিব মো. শহিদুল হক, নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ মোহাম্মদ বেলাল, গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী আবুবকর ম্যারি টাম্বাডো, আইএসএস-এর রেক্টর ইঙ্গে হুটার, নেদারল্যান্ডসের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত ও মিয়ানমার সংক্রান্ত কফি আনান কমিশনের সদস্য লেটেশিয়া ভ্যান ডেন আছুমের সভায় উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিসের নির্বাহী পরিচালক মনজুর হাসান বলেন, রোহিঙ্গা বিষয়ে গঠিত আনান কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালায়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের (বাংলাদেশের) পক্ষে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো দাঁড়ায়নি। জাতিসংঘে চীন, রাশিয়া সরাসরি মিয়ানমারের পক্ষ অবলম্বন করছে। এমনকি আমাদের প্রতিবেশী ভারতও আমাদের পক্ষে ভোট দেয়নি। আমরা চাই নতুন সমস্যার মাঝে রোহিঙ্গাদের আলোচনা যেন হারিয়ে না যায়। এ জন্যই ১৮ অক্টোবরের আন্তর্জাতিক বৈঠক। এখান থেকে আলোচনার মাধ্যমে আমরা আগামী দিনের করণীয় ঠিক করব। আমাদের উদ্দেশ্য সরকারকে আইনি ও পলিসিগত সহায়তা দেওয়া।’

নারীপক্ষ ‘রোহিঙ্গা নারীদের পাশে আমরা’ কর্মসূচির সমন্বয়কারী শিরীন হক বলেন, কেবলমাত্র ইসলামোফোবিয়ার কারণেই সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে গণহত্যা চালিয়েছে মিয়ানমার। কিন্তু চীন ও রাশিয়ার ভেটোর কারণে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলে রোহিঙ্গা সমস্যাটি বাদ পরে যাচ্ছে। আবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিসি) সদস্য না মিয়ানমার। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই বিষয়টি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে।

তিনি আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যে আইসিসিতে ৭টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেখানে একটি শুনানি হয়েছে। আইন অনুযায়ী তদন্তের পূর্বে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে গণ সম্মতিপত্র নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৯০ হাজার রোহিঙ্গা স্বাক্ষর করেছেন। আগামী ২৮ অক্টোবর সিদ্ধান্ত হবে রোহিঙ্গা হত্যার বিষয়ে আইসিসি তদন্ত করবে কীনা। আমরা আশা করছি অবশ্যই বিচারক অভিযোগ আমলে নিবে। তাই তদন্ত শুরুর আগেই আমরা বিশ্বের কাছে রোহিঙ্গা সমস্যার বিষয়ে আবারও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চাই’।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত