চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বটতলী মোহছেন আউলিয়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফেলে রাখা হয়েছে নির্মাণসামগ্রী। কোথাও কোথাও সড়কের ওপর মালামাল রেখেই চলছে নির্মাণকাজ। এতে সরু হয়ে পড়েছে সড়কটি। তৈরি হচ্ছে যানজট, প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
স্থানীয়রা বলছেন, সড়কে যত্রতত্র বালু, সিমেন্ট, কঙ্করসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখার কারণে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। রোদ হলেই এসব নির্মাণসামগ্রী থেকে ধুলা উড়ছে।
জানা গেছে, সড়কের আইরমঙ্গল সেতুর পূর্বপাশে গড়ে তোলা হচ্ছে একটি বহুতল ভবন। এটির নির্মাণকাজ ঘিরে এক মাস ধরে সড়ক ও সেতুর দুপাশে ফেলে রাখা হয়েছে নির্মাণসামগ্রী। একটু জোরে বাতাস বইলেই ধুলাবালু ছড়াচ্ছে চারদিকে। তবে নির্মাণাধীন ভবনটির মালিক প্রবাসী ছৈয়দুল হক দাবি করেন, সড়কে কাজ করলেও যানচলাচল ব্যাহত হচ্ছে না।
৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এ সড়কের বটতলী রুস্তমহাটে পল্লীবিদ্যুতের সাব-স্টেশন থেকে দক্ষিণ দিকে প্রায় ৩০০ মিটার এলাকাজুড়ে সড়কের দুপাশে নির্মাণসামগ্রী রেখে বেচাকেনা করছেন ব্যবসায়ীরা। অনেক সময় সড়কের ওপর যন্ত্র বসিয়ে কঙ্কর ভাঙা হয়। সড়কের যত্রতত্র স্তূপ করে রাখা হয়েছে গাছের গুঁড়ি, রড, ইট, বালু-খোয়া। এতে পরিবেশ দূষিত হওয়ার পাশাপাশি মøান হচ্ছে এলাকার সৌন্দর্য। আর ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে প্রায়ই।
সম্প্রতি সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, আইরমঙ্গল সেতুর পাশে সড়কের অর্ধেকের বেশি জায়গা দখল করে নির্মাণসামগ্রী রেখে পাশে ভবন গড়ে তোলার কাজ চলছে। এ সড়ক দিয়ে মিনিটে বিভিন্ন ধরনের ৮-১০টি যানবাহন চলাচল করে। এ কারণে যানজট ও দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা। সড়কের ওপর এভাবে কাজ করতে গিয়ে শ্রমিকরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সড়কের ওপর নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখায় ঝুঁকির কথা জানিয়েছেন নির্মাণশ্রমিকরাও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন নির্মাণশ্রমিক বলেন, সড়কে রাখা নির্মাণসামগ্রী আনতে গিয়ে প্রায়ই রিকশা-অটোরিকশার ধাক্কা খান তারা। আর এলাকাবাসী বলছে, কোনো কোনো স্থানে মাসের পর মাস পড়ে থাকছে নির্মাণসামগ্রী। সড়কের বিভিন্ন স্থানে কম-বেশি একই রকম চিত্র। আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন, সড়ক দখল করে কোনো ধরনের কাজ করার নিয়ম নেই। খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
