আইনজীবীর হাতে হাতকড়া: প্রতিবাদে বিচারক অবরুদ্ধ, এজলাস ভাঙচুর

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১০:৩৮ পিএম

কিশোরগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিচারকের নির্দেশে এক সিনিয়র আইনজীবীকে আটকের পর হাতকড়া পড়িয়ে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে রাখার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ আইনজীবীরা এজলাসে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে। এসময় বিচারককে আধাঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এই ঘটনায় আদালত জুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে আদালত চলাকালীন সিনিয়র আইনজীবী মো. ইকবাল হোসেন বিপ্লব একটি মামলার নথি দেখার জন্য বেঞ্চ সহকারীকে বললে মামলার নথিটি আইনজীবী বিপ্লবকে প্রদান করেন। তিনি মামলার নথিটি নিয়ে আদালতের দরজায় নথিটির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাকালীন মামলাটির ডাক পড়ে। এমতাবস্থায় ওই আইনজীবী নথিটি বেঞ্চ সহকারীর নিকট হস্তান্তরের পর বেঞ্চ সহকারী মামলার নথিটি ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মো. সোলাইমানের নিকট উপস্থাপন করেন।

এসময় বিচারক আইনজীবী বিপ্লবের নিকট জানতে চান মামলার নথি নিয়ে তিনি কোথায় গিয়েছিলেন। নথিটি দেখার জন্য বেঞ্চ সহকারীর নিকট থেকে চেয়ে নেওয়া হয়েছে জানানোর পরও বিচারক আইনজীবী বিপ্লবকে মামলার নথি চোর আখ্যা দিয়ে তাকে আটকের নির্দেশ দেন পুলিশকে।

নির্দেশ পেয়ে পুলিশ আইনজীবী বিপ্লবকে তাৎক্ষণিক আটক করে হাতকড়া পড়িয়ে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে রাখেন।

এ ঘটনার পরপরই কিশোরগঞ্জ বারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. শহীদুল আলমসহ উপস্থিত বেশ কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী বিপ্লবকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলেও বিচারক তাদের অনুরোধ রাখেননি।

এই খবর আইনজীবীদের মধ্যে মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে আইনজীবীরা আদালত বর্জন করে। বিক্ষুব্ধ আইনজীবীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মিয়া মোহাম্মদ ফেরদৌসের নেতৃত্বে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারকের এজলাসে ছুটে গিয়ে আইনজীবী বিপ্লবকে ছাড়িয়ে নেয়।

এ সময় উত্তেজিত আইনজীবীরা এজলাসে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং বিচারক মো. সোলায়মানকে তার কক্ষে আধাঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে।

এ সময় আইনজীবীরা বিচারকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকে। এক পর্যায়ে আদালতে নিয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ছুটে এসে ওই বিচারককে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।

এদিকে আইনজীবীর সঙ্গে অশালীন আচরণের প্রতিবাদে আইনজীবীরা আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিলে করে। এর পরে জেলা আইনজীবী সমিতি তাৎক্ষণিক এক জরুরি সভায় মিলিত হয়।

সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মিয়া মোহাম্মদ ফেরদৌসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শহিদুল আলম সহিদ, সাবেক সভাপতি ও স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট এম এ আফজল, অ্যাডভোকেট  প্রিন্সিপাল আবদুর রশিদ, পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক তারেক উদ্দিন আবাদ, সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মফিজ উদ্দিন প্রমুখ। 

জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয় যে, বুধবারের মধ্যে বিচারক মো. সোলায়মানকে কিশোরগঞ্জ ত্যাগ করতে হবে। ওই বিচারককে আইনজীবীর সঙ্গে অমার্জনীয় আচরণের জন্য চাকরিচ্যুত করতে হবে। বিচারক সোলায়মানের বিরুদ্ধে আইনজীবী সমিতি বাদী হয়ে দণ্ডবিধি আইনের ৫৫ ধারায় মানহানির মামলা দায়ের করা হবে এবং সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় আইনজীবীরা লাগাতার আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন।

কিশোরগঞ্জ বারের সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ ফেরদৌস বলেন, এজলাসের বেঞ্চ সহকারীর অনুমতিক্রমে একজন আইনজীবী যে কোন মামলার নথি দেখতেই পারে। আর আমাদের আইনজীবী তাই করেছেন। কিন্তু বিচারক মো. সোলায়মান কোন আইনে একজন সিনিয়র আইনজীবীর হাতে হাতকড়া পড়ালো বুঝতে পারি নাই।

এই দিকে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু বাক্কার জানান, আদালত জুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত