তরকারি কাটা নিয়ে বকাঝকা: বাবুর্চিকে কুপিয়ে হত্যা

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০৭:৪৭ পিএম

ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে লঞ্চের রান্না ঘরে বাবুর্চিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত বাবুর্চির নাম মো. রুবেল মুন্সি (২২)। তরকারি কাটা নিয়ে সহকারীকে বকা দিলে সে বাবুর্চিকে কুপিয় হত্যা করে বলে জানা যায়।

ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার দুপুরে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের ২নং ঘাটে কিত্তনখোলা-২ নামক লঞ্চে। নিহতের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার সদর থানার শিয়ালী এলাকায়। তার বাবার নাম আব্দুল গনি মুন্সি।

এ ঘটনায় হত্যার অভিযোগ উঠেছে একই লঞ্চের হোটেল বয় ইসতির বিরুদ্ধে। ঘটনার পর ইসতি (২০) দৌড়ে পালিয়ে যায়।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

কিত্তনখোলা-২ লঞ্চের কর্মচারী আবু তালেব জানান, নিহত রুবেল এবং ইসতি লঞ্চের হোটেলে কাজ করতেন। নিহত রুবেল ছিলেন বাবুর্চি আর ইসতি হোটেল বয়। ঘটনার আগে হোটেলের সব কর্মচারী রান্নার ব্যবস্থা করছিলেন। নিহত বাবুর্চি রুবেল বয় ইসতিকে তরকারি কাটার জন্য বলেন। ইসতি বাবুর্চির কথামতো তরকারি কাটতে না পারলে বাবুর্চি রুবেল তাকে গালাগালি করতে থাকে। একপর্যায়ে ইসতি রাগের মাথায় তরকারি কাটার বটি দিয়ে রুবেলকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। বটির কোপের আঘাতে রুবেল হোটেল মেঝেতে পড়ে যায় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকলে ইসতি দৌড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় কয়েকজন তার পিছু নিলেও ধরতে পারেনি।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এস আই মো. ইমরান উকিল জানান, ঘটনার খবর পেয়ে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের ২নং ঘাটে কিত্তনখোলা-২ লঞ্চের রান্নাঘরে ভেতরে প্রবেশ করে নিহত বাবুর্চির লাশ পড়ে থাকতে দেখি। পরে লাশের সুরতহাল তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠাই। এ ঘটনায় ওই লঞ্চের চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে এসেছি।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে যা জানতে পেরেছি তা হচ্ছে তরকারি কাটা নিয়ে বাবুর্চি এবং হোটেল বয়ের মধ্যে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে বয় বাবুর্চিকে বটি দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। হত্যাকারী ইসতি গ্রেপ্তার হলে এর আসল রহস্য জানা যাবে। এ ব্যাপারে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত