ইতালির কথা বলে লিবিয়ায় বিক্রি, ৬৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়

আপডেট : ২৭ মে ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম

ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে লিবিয়ায় পাচার করে জিম্মি করে অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে তার পরিবারের কাছ থেকে ৬৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্র।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটির তদন্ত করে চক্রের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। একইসঙ্গে জিম্মি অবস্থা থেকে ওই যুবককে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) পিবিআই তাদের ফেসবুক পেইজে এ তথ্য জানায়।

ভুক্তভোগী সোহেলকে (ছদ্মনাম) ইতালি পাঠানোর কথা বলে প্রথমে তার পরিবারের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা নেয় চক্রটি। পরে তাকে লিবিয়ার ত্রিপলী শহরে নিয়ে এক অপহরণ চক্রের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়। সেখানে তাকে জিম্মি করে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

অপহরণকারীরা সোহেলের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের ইমো অ্যাপে নির্যাতনের ভিডিও পাঠায়। ভিডিওতে দেখা যায়, তাকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় নির্যাতন করা হচ্ছে। ভয়ভীতি দেখিয়ে ধাপে ধাপে আরও টাকা আদায় করে চক্রটি।

দীর্ঘদিন সোহেলকে অনাহারে ও অর্ধাহারে আটকে রাখা হয়। তার হাতের নখ থেঁতলে দেয়া, শরীর ব্লেড দিয়ে কেটে রক্তাক্ত করা ও বৈদ্যুতিক তার দিয়ে মারধরসহ নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। সব মিলিয়ে বিদেশে পাঠানো, মুক্তিপণ ও ডলার ভাঙানোর নামে পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ৬৩ লাখ টাকা আদায় করে চক্রটি।

এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী উর্মি বেগম গত ৬ এপ্রিল তুরাগ থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত শুরু করে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)।

তদন্তে টিটু মীর, রহিমা বেগম ও ইসমাইল দেওয়ানসহ চক্রের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মোবাইল ফোন বিশ্লেষণ করে মুক্তিপণ আদায়, ব্যাংক হিসাব ব্যবহার এবং বিদেশে থাকা মূল হোতাদের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সহায়তায় চক্রটির একাধিক ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে। পিবিআইয়ের ধারাবাহিক তদন্ত ও অভিযানের চাপে অপহরণকারীরা শেষ পর্যন্ত লিবিয়ায় সোহেলকে একটি অজ্ঞাত স্থানে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তায় তিনি নিরাপদ আশ্রয়ে যান।

পিবিআই, ইউএনওডিসি, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সমন্বয়ে তাকে নিরাপদ হেফাজতে নেওয়া হয়। গত ৩ মে তাকে ত্রিপলীর আইওএম আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয় এবং ২৫ মে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনে পিবিআই।

আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের পলাতক সদস্যদের গ্রেফতার ও অর্থপাচারের নেটওয়ার্ক উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পিবিআই বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে দালালচক্রের প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত