জাতীয় নাগরিক তালিকাকে (এনআরসি) ইস্যু করেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসন জয়ের পরিকল্পনা করছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
বৃহস্পতিবার দেশটির একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিজেপির কেন্দ্রীয় সভাপতি অমিত শাহ এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে জানায় সংবাদ প্রতিদিন।
এনআরসি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে অমিত শাহ বলেন, ‘বাংলায় এনআরসির কথা বলবোই। আগামী নির্বাচনে বাংলায় এনআরসি অবশ্যই একটা ইস্যু। বাংলায় এবারের (লোকসভা) নির্বাচনেও এনআরসি ইস্যু ছিল।’
লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সাফল্যের পেছনে এনআরসিও ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বাংলায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আমরা ক্ষমতায় আসব।’
কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা অমিত বলেন, ‘এত অত্যাচার এবং রাজনৈতিক হত্যার পরও লোকসভা নির্বাচনে আমরা ১৮টি আসন পেয়েছি। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সাফল্য নিয়ে যে দ্বিধা ছিল তা কেটে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘লোকসভা নির্বাচনের আগে আমি বলছিলাম পশ্চিমবঙ্গে আমরা ২২টি আসন পাবো। তখন অনেকে তা মানেননি। কিন্তু আমরা ১৮টি আসন পেয়েছি। তিনটি আসনে আমরা চার-পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরেছি।’
বিধানসভা নির্বাচনের প্রতি ইঙ্গিত করে বিজেপির কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, ‘এবার দেখবেন আমরা দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসবো। বাংলার মানুষ সেখানকার সরকারকে সরিয়ে বিজেপিকে নিয়ে আসার জন্য তৈরি হয়ে গেছে।’
সারাদেশেই এনআরসি কার্যকর করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের আগেই সারা দেশে এনআরসি কার্যকর হবে। অনুপ্রবেশকারীদের বাইরে পাঠানোর আইনি যে পদ্ধতি রয়েছে, তা মানা হবে। জাতিসংঘের একটা কনভেনশন তৈরি করা হবে, তাতে আইনও থাকবে এবং তা মানা হবে।’
সারাদেশে এনআরসি কার্যকরের জন্যই বিভিন্ন রাজ্যে ‘ডিটেনশন ক্যাম্প’ নির্মাণ চলছে কিনা- এমন প্রশ্নে অমিত শাহ বলেন, ‘সরকার আগে থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে। ডিটেনশনের যে প্রক্রিয়া তা ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল দেখবে।’
