‘জয় বাংলা আওয়ামী লীগের নয়, মুক্তিযুদ্ধের রণধ্বনি’

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৬:৪৭ পিএম

জয় বাংলা আওয়ামী লীগের কোন দলীয় স্লোগান নয় এটি মুক্তিযোদ্ধাদের রণধ্বনি উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করার পাশাপাশি এ রণধ্বনি দিয়ে পাক হানাদারদের মনোবল ভঙ্গ করেছিল। অনেকেই আজ মনে করেন জয় বাংলা দলীয় স্লোগান, এটি কখনোই দলীয় স্লোগান হতে পারে না। এ স্লোগানকে মুক্তিযোদ্ধাদের নিজস্ব স্লোগান করা উচিত।

শনিবার দুপুরে সোনারগাঁ উপজেলার সাহাপুর এলাকায় সোনারগাঁ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের ভবন উদ্বোধনে এসে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল এবং চিকিৎসা ভাতা বাবদ মাসে তিন হাজার টাকা করে প্রদানের জন্য সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার। তাছাড়া আগামী বছর মুজিব বর্ষ পালন উপলক্ষে দেশের ১৫ হাজার দুস্থ মুক্তিযোদ্ধাকে গৃহ নির্মাণ করে দেয়া হবে। প্রতি গৃহ নির্মাণে ১৫ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হবে। একই ডিজাইনে তৈরি করা হবে সকল মুক্তিযোদ্ধাদের বাস ভবন।

মন্ত্রী আরও বলেন, চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত নামের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। এ গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে আগের সকল গেজেট বাতিল হয়ে যাবে। সম্পূর্ণ অনলাইন ভিত্তিক এ গেজেটের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নিয়ে বিতর্কের অবসান হবে। কেউ চাইলেই মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ নকল করতে পারবে না। এ তালিকার নিরাপত্তার জন্য ছয়টি বার কোড ব্যবহার করা হবে।

তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ জেলা ও উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে। ২৫টি উপজেলায় কমপ্লেক্স নির্মাণ বাকি আছে অচিরেই এগুলো সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া দেশের প্রতিটি যুদ্ধ ক্ষেত্র, বধ্যভূমি, মুক্তিযোদ্ধাদের কবর একই নকশায় নির্মাণ করা হবে যাতে পরবর্তী প্রজন্ম এগুলো দেখেই বুঝতে পারে এগুলো মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি চিহ্ন।

মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচন বিভিন্ন কারণে এত দিন বন্ধ ছিল অচিরেই এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা কখনোই নির্বাচনের বিপক্ষে নই। আদালতে মামলা থাকায় নির্বাচন বিলম্বিত হয়েছে এখন কোন মামলা নেই তাই নির্বাচনে কোন বাঁধা নেই।

তিনি আরও বলেন, আমরা জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছি। কিন্তু আমাদের সন্তানরা যদি অন্য মতাদর্শে বড় হয় তাহলে এটা খুবই দুঃখজনক। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনার সন্তান যেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শে বড় হয় সে ব্যাপারে সজাগ থাকবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক  মো. জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সাংসদ আব্দুল্লাহ আল কায়সার, নারায়ণগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলী, সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন প্রমুখ।

উল্লেখ্য সোনারগাঁ উপজেলার সাহাপুর এলাকায় স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতায় ১০ শতাংশ সরকারি জমির উপর ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ বছরে নির্মাণ করা হয় ৩ তলা বিশিষ্ট সোনারগাঁ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত