জম্মু-কাশ্মীরে বন্দীদের মুচলেকা দিয়ে মুক্তি দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। রাজ্যটির বিশেষ মর্যাদা বাতিল নিয়ে মুখ খুলতে পারবেন না বন্দীরা, মুক্তির জন্য এমন শর্ত আদায় করা হচ্ছে বন্দীদের থেকে।
আগস্টের শুরুতে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের ঘটনা থেকে আড়াই মাসে সাড়ে ৫ হাজার কাশ্মীরিকে গ্রেপ্তার করা হয়। যাদের মধ্যে আছে ৯-১০ বছর বয়সী ১৪৪ জন শিশুকেও।
আটককৃতদের মধ্যে ৩৫০ জনকে পিএসএ আইনের অধীনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের উত্তরপ্রদেশের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
টেলিগ্রাফে প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে স্ক্রল জানায়, বন্দীদের মুক্তি দিতে ‘সাম্প্রতিক ঘটনা’ নিয়ে কোনো কথা না বলা বা এ নিয়ে কোনো বৈঠক বা জমায়েতে অংশ না নেওয়ার জন্য জোরপূর্বক মুচলেকা নেওয়া হচ্ছে।
এখানে জম্মু-কাশ্মীরের ‘সাম্প্রতিক ঘটনা’ বলতে, সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলটির বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়া এবং একে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ নামে দুইটি আলাদা অঞ্চলে ভাগ করাকেই বোঝানো হচ্ছে মূলত।
জানা যায়, মুক্তির জন্য ১০৭ ধারায় মুচলেকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে কাশ্মীরিদের। কোনো ধরনের মন্তব্য করা যাবে না বা কোনো বিবৃতি দেওয়া যাবে না বা জনসম্মুখে কোনো বক্তব্য দেওয়া যাবে না- এই তিনটি শর্তে স্বাক্ষর নিয়ে বন্দীদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।

পাশাপাশি ১০ হাজার রুপি জামানত রাখা হচ্ছে বন্দী কাশ্মীরিদের কাছ থেকে। শর্ত ভঙ্গ করলে ৪০ হাজার রুপিও দিতে বাধ্য করা হবে তাদের।
প্রসঙ্গত, গ্রেপ্তারকৃত স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মধ্যে আছেন রাজ্যটির সাবেক তিন মুখ্যমন্ত্রী ড. ফারুক আবদুল্লাহ, ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিও। এর মধ্যে ফারুক আবদুল্লাহকে পিএসএ আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, এই আইনে এ প্রথম কোনো জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেপ্তার করল ভারতীয় প্রশাসন।
