তুরস্কের ওপর আরোপ করা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দিদের অবস্থানে লক্ষ্য করে তুরস্কের অভিযানের প্রেক্ষিতে নয়দিন আগে এই নিষেধাজ্ঞা আনা হয়েছিল।
বিবিসি জানায়, বুধবার হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বক্তৃতায় ট্রাম্প বলেন, ‘সিরিয়ায় তুরস্ক যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করলে তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে ওয়াশিংটন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অসন্তুষ্ট হই এমন কিছু না ঘটলে তুরস্কের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেওয়া হবে।’
মঙ্গলবার রাশিয়ার সঙ্গে ‘ঐতিহাসিক’ সমঝোতার পর উত্তর সিরিয়ায় ‘অপারেশন পিস স্প্রিং’ সমাপ্তির ঘোষণা দেয় তুরস্ক। পরদিনই তুরস্কের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত জানান ট্রাম্প।
সমঝোতা অনুযায়ী রাস আল-আইন শহর থেকে তাল আবইয়াদ শহর পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটার এলাকায় প্রস্তাবিত ‘সেফ জোন’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এখানকার সীমান্তবর্তী এলাকায় যৌথ টহল দেবে রুশ-তুর্কি বাহিনী।
ট্রাম্প মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণার পর গত ৯ অক্টোবর সিরিয়ায় কুর্দি বাহিনী পিপলস প্রোটেকশন ইউনিটস (ওয়াইপিজে) এর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে তুরস্ক।
আইএস নিধনে মিত্র কুর্দিদের পাশ থেকে সরে যাওয়ায় ঘরে-বাইরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তবে অভিযান শুরুর পর তুরস্কের দুজন মন্ত্রী এবং তিনজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।
নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি তুরস্কের সঙ্গে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত করেন ট্রাম্প। সেই সঙ্গে আঙ্কারা ইস্পাত আমদানির ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধি করে ওয়াশিংটন।
বেসরকারি পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি জানায়, সিরিয়ার উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনে ‘সেফ জোন’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তুরস্কের এ অভিযানে ২৫৯ কুর্দি যোদ্ধা এবং ১২০ বেসামরিক লোক নিহত হন। বিপরীতে তুর্কি নেতৃত্বাধীন সিরীয় বাহিনীর ১৯৬ সদস্য, সাত তুর্কি সেনা এবং তুরস্কের ২০ জন বেসামরিক লোক নিহত হন।
