লেবাননের বিক্ষোভে নারীদের অংশগ্রহণ সাড়া ফেলেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে। সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে এ মাসের মাঝামাঝিতে সরব হয়েছেন লেবাননের মানুষ।
প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরির পদত্যাগের দাবিতে বর্তমানে উত্তাল লেবাননের রাজধানী বৈরুত।
ডয়চে ভেলে জানায়, দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিপুলসংখ্যক নারীদের অংশগ্রহণ দেখা গিয়েছে। বিক্ষোভে নারীদের নেতৃত্ব দান ও অভিনব প্রতিবাদের ধরন মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অংশের নারীদেরও অনুপ্রাণিত করছে।

রবিবার লেবাননের মানুষ ১৭০ কিলোমিটারের মানববন্ধন গড়ে তুলে। যার মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন বিভিন্ন বয়সের নারী। দুর্নীতিপরায়ণ সরকারের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে শান্তিপূর্ণ এই মানববন্ধনকে।
তবে এর মধ্যে ব্যতিক্রম ঘটনাও ঘটেছে। বৈরুতে দেশটির শিক্ষামন্ত্রীর গাড়িবহর থামিয়ে দেন নারী বিক্ষোভকারীরা। মন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষী বন্দুক উঁচিয়ে বাধা দিতে গেলে তাকে লাথি মেরে ধরাশায়ী করে দেন এক নারী।

লেবাননে নারীদের এমন রূপ দেখে কিছুটা লজ্জিত হয়েই ফিরে যায় সেই রক্ষী। এই দৃশ্য ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
এই ঘটনাটি ছাড়া পুরো বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ও অহিংস বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। মানববন্ধনের পাশাপাশি শৈল্পিক প্রতিবাদও চালাচ্ছে নারীরা। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রচলিত নৃত্য ‘বেলি ড্যান্স’ও। অনেককেই দেখা গিয়েছে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া আলোচিত সিনেমা জোকারের চরিত্রের বেশেও।

হিজাব পরা, শর্টস পরা-সব ধরনের পোশাকেই বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করছেন নারীরা। সমাজকর্মী হেন্দ এলখোলি ফেসবুকে লেখেন, ‘প্রতিবাদ বিক্ষোভে পুরুষদের মতো শর্টস পরে ঘুরতে পারেন নারীরাও। সেখানে হেনস্তার কোনো ভয় নেই।’
নারীদের এই বিক্ষোভ মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যম ‘সুন্দরী নারীদের জমায়েত’ বলে উল্লেখ করে। লেবাননের এই নারীদের ‘সুন্দরী ও বিপ্লবী’ বলে আখ্যায়িত করে সংবাদমাধ্যমগুলো।
তবে বিক্ষোভকারী নারীদের অভিযোগ, বেছে বেছে নারীদের ‘আকর্ষণীয়’ ছবি ছাপছে সংবাদমাধ্যমগুলো।

২০১৭ সাল পর্যন্ত দেশটিতে অভিযুক্ত ধর্ষকদের শাস্তি মওকুফ হয়ে যেত, যদি সে ধর্ষিতাকে বিয়ে করত। যদিও এই আইন পরবর্তীতে রদ হয়ে গিয়েছে। এখানেও ছিল লেবাননের নারীদের বড় ভূমিকা।
ধর্ষণের দায় ধর্ষিতার ওপর থেকে ধর্ষকের ওপর সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার দাবিতে ২০১৮ সালে রাস্তায় নামে দেশটির নারীরা।
সেই আন্দোলনের পর থেকে আরও বেশি অধিকার সচেতন হয়ে উঠেছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির নারীরা। যার ধারাবাহিকতায় সরকারবিরোধী আন্দোলনে এমন সরব অংশগ্রহণ দেখা গিয়েছে নারীদের।
