রাজ্যের ‘বিশেষ মর্যাদা’ হারিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হতে চলেছে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ। ৫ আগস্ট নরেন্দ্র মোদি সরকার এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে তা অনুমোদন করেছে সংসদ। যাতে সই করেছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।
আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, বৃহস্পতিবারই দুই আমলা গিরিশচন্দ্র মুর্মু শ্রীনগরে এবং আর কে মাথুর লাদাখে উপরাজ্যপাল হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন।
দুটি এলাকার পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা থাকবে কেন্দ্রের হাতে। জমির বিষয়টি দেখবে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচিত সরকার।
জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা সংক্রান্ত সংবিধানের ধারা বিলোপ প্রসঙ্গে আগস্টে নরেন্দ্র মোদি বলেন, “ওই দুটি ধারার কারণে সেখানে এত বছর ধরে সন্ত্রাসবাদ, পরিবারতন্ত্র আর দুর্নীতি ছাড়া আর বিশেষ কিছু হয়নি। তিন দশকে ৪২ হাজার নির্দোষ মানুষের প্রাণ গেছে। ভারতের অন্য সব নাগরিক যেসব অধিকার ভোগ করতেন, সেগুলোর অনেকগুলি থেকেই জম্মু-কাশ্মীরের নাগরিকেরা বঞ্চিত ছিলেন।”
বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার পর থেকে ওই অঞ্চলটি কয়েক মাস ধরে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে আছে। ভারতের অন্য অঞ্চল ও বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন নাগরিকেরা। গৃহবন্দী রয়েছেন সাবেক তিন মুখ্যমন্ত্রী। কারাগারে রয়েছেন অসংখ্য রাজনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষ। অঞ্চলটিকে যেতে চেয়েও বারবার বাধার মুখে ফিরতে হয় বিরোধী দলীয় নেতৃবৃন্দকে।
সম্প্রতি উগ্র ডানপন্থী ও শরণার্থী বিরোধী হিসেবে পরিচিতি ইউরোপের ২৮ সাংসদের একটি প্রতিনিধি দলকে ‘বেসরকারিভাবে’ অঞ্চলটি সফরের অনুমতি দেয় মোদি সরকার। এই নিয়ে দেশে-বিদেশে সমালোচনার মুখে পড়ে ভারত।
