পছন্দের সিগারেট না পেয়ে মো. ইব্রাহীম নামে এক দোকানদারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে।
বুধবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের সামনে এ মারধরের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ওই দোকান খুলতে দেখা যায়নি।
মারধরকারীরা চবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপুর অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত বলে জানা যায়।
সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী দোকানির কাছে সিগারেট চান এক ছাত্রলীগকর্মী। তবে ছাত্রলীগকর্মী যে সিগেরেট চান তা নেই বলে জানান দোকানদার ইব্রাহীম। এ সময় অন্যান্য সিগারেট থাকলও কেন তার পছন্দের সিগারেট নেই, এ কথা বলে কয়েকজন মিলে তাকে মারধর করে এবং দোকান ভাঙচুর করে।
মারধরের পর হুমকি দিয়ে ঘটনা কাউকে না জানানোর নির্দেশও তারা দেন বলে জানা যায়।
জানা গেছে, মারধরের পর দোকান বন্ধ করে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় চলে যান ইব্রাহীম। পরে আবার কয়েকজন ছাত্রলীগকর্মী এসে কেরোসিন ঢেলে দোকানে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় অন্য দোকানিরা এসে আগুন বন্ধ করেন বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ইব্রাহীম জানান, 'আমার সঙ্গে ঘটনা যেহেতু ঘটেই গেছে, আমি ছোট ব্যবসা, কী আর করব। তবে তাদের (মারধরকারী) বড় ভাইয়েরা বলেছি, তিনি সমাধান করে দেবেন'।
তিনি আরো বলেন, আমি বিষয়টি ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদেরও জানিয়েছি। আশা করি তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন। এখন দেখা যাক কী হয়।
জানতে চাইলে দোকান ভবনের মালিক নজরুল ইসলাম বলেন, তারা (ছাত্রলীগের কর্মীরা) দোকানদারকে অনেক মারধর ও দোকানের ভেতর ভাঙচুরও করেছে। দোকানদার চিকিৎসা নিচ্ছেন তাই বৃহস্পতিবার দোকান খুলতে পারেননি।
তিনি বলেন, মারধর ও ভাঙচুরের বিষয়ে চবি ব্যবসায়ী সমিতির নেতা ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপুকে জানানো হয়েছে। তারা বিষয়টি দেখবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু বলেন, জুনিয়রদের সঙ্গে একটা ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিল। বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টব মিত্র চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা শুধু বিভিন্নজনের কাছ থেকে শুনছি। তবে ভূক্তভোগী বা তার পক্ষে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব।
