আফগানিস্তানে যুদ্ধাপরাধে জড়িত সিআইএ সমর্থিত মিলিশিয়া বাহিনী

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৯, ১২:২৯ পিএম

আফগানিস্তানে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ সমর্থিত আধা সামরিক বাহিনীগুলো যুদ্ধাপরাধসহ বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও হত্যাসহ অন্যান্য ‘মারাত্মক নিপীড়ন’ সংঘটিত করেছে।

খোদ যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এইচআরডব্লিউ’র এক তদন্তে এমনটা উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে রুশ গণমাধ্যম আরটি।

প্রত্যক্ষদর্শী, মার্কিন স্পেশাল অপারেটরস এবং আফগান সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এক ডজনেরও বেশি ঘটনা উদ্‌ঘাটন করেছে মানবাধিকার সংস্থাটি।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সমর্থিত আধা সামরিক বাহিনীগুলো ২০১৭ সালের শেষের দিক থেকে ২০১৯ সাল নাগাদ ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, নির্বিচার বিমান হামলা, হাসপাতালে হামলা এবং যুদ্ধের অন্যান্য আইন লঙ্ঘনসহ ‘গুরুতর নিপীড়ন’ চালিয়েছে।

‘খুন করো অথবা ধরো’ হিসেবে পরিচিত রাত্রিকালীন অভিযানে এ ধরনের বেশ কয়েকটি নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে। আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী রণকৌশলে এটা প্রয়োজনীয় অংশ বলে জোর দিয়ে থাকেন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা।

কথিত ‘পরিস্থিতিজনিত প্রাণহানির (কোলেটারাল ডেথ)’ জন্য গোটা যুদ্ধজুড়ে এসব অভিযানের জন্য এসব আধা সামরিক বাহিনী সমালোচিত ছিল। এজন্য ২০১৩ সালে সাময়িকভাবে এসব অভিযান বন্ধ করে দেন তৎকালীন আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। কিন্তু এক বছর পরই নতুন গতিতে এসব অভিযান ফের শুরু হয়।

এইচআরডব্লিউ’র প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব রাত্রিকালীন অভিযানের অধিকাংশই ছিল ‘ভুল গোয়েন্দা’ তথ্যের ওপর নির্ভর করে। কয়েদিদের নিপীড়ন করে কিংবা স্থানীয় ক্ষমতালিপ্সুদের কাছ থেকে এসব তথ্য নেওয়া হতো যারা নিজেদের প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে সচেষ্ট ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্য রাতের এসব অভিযানে বন্দিদের হত্যা করা হতো, লোকজনকে হাত পিচমোড়া করে বেঁধে হত্যা করা হতো আর শিশুদের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করা হতো। এসব কর্মকাণ্ড যে যুদ্ধের আইন লঙ্ঘন করেছে, বাস্তবে সে বিষয়ে প্রশ্নের অবকাশ নেই।

এসব অভিযানের বিষয়ে জানাশোনা আছে এমন এক মার্কিন কূটনীতিক এইচআরডব্লিউকে বলেন, সিআইএ ‘ডেথ স্কোয়াড’ হিসেবে পরিচিত এসব ‘স্ট্রাইক ফোর্সকে’ প্রশিক্ষণ দিতো। এদের মধ্যে আফগান সামরিক বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক কমান্ডের বাইরে ‘অনিয়মিত সেনাও’ ছিল। তারা মধ্যরাতে বাসাবাড়িতে ঢুকে কাউকে কোনো কিছু জিজ্ঞেস করা ছাড়াই গুলি করতো।

এসব ‘অনিয়মিত বাহিনীগুলো’ নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার সংস্থাটি।

প্রতিবেদনের জবাবে সিআইএ বলেছে, “এসব অভিযোগ ‘মিথ্যা এবং অতিরঞ্জিত’। আমরা এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড সমর্থন করি না এমনকি জ্ঞাতসারে অংশগ্রহণও করিনি।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত