১৯৯০ সাল। ভারতে কয়েক শ বছরের পুরান ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভেঙে দেন কট্টরপন্থী হিন্দুরা। এর ঢেউ আছড়ে পড়ে বাংলাদেশেও।
বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার চেষ্টা হয়।
কিন্তু সে সময় গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার প্রতিরোধ ও দৃঢ় নেতৃত্বে বড় ধরনের ঘটনা থেকে রক্ষা পায় বাংলাদেশ।
এ ঘটনাটি স্মরণ করে লেখক ও সাংবাদিক রাজীব নূর ফেসবুকে জানান-
‘‘৬ ডিসেম্বরে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনায় দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সৃষ্টি হয়েছিল— এ সবারই জানা আছে। আমাদের সঙ্গে আড্ডায় আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (কথাসাহিত্যিক) বলছিলেন পরের রাত ৭ ডিসেম্বরের কথা। ইলিয়াস ভাই তখন থাকতেন পুরান ঢাকার হাটখোলায়। খুব অস্থির বোধ করছিলেন। তাই ঘরের বাইরে এসে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এই সময় তাঁর দেখা হলো সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে। একদঙ্গল সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন খোকা।
ইলিয়াসকে দেখে এগিয়ে এলেন। খোকাকে ইলিয়াস বললেন, ‘ওদেরকে পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব দিয়ে আপনি ঘরে চলে যাচ্ছেন না কেন?’
‘আমি তো শুধু হিন্দু বাড়ি পাহারা দিচ্ছি না’— খোকা অদূরে দাঁড়ানো নিজের দলবলকে দেখিয়ে বললেন, ‘ওদেরকেও পাহারা দিচ্ছি। আমি চলে গেলে ওরাও লুটপাট করবে।’’
আরেক সাংবাদিক প্রতীক ইজাজ ফেসবুকে লেখেন, ‘আমি দেখেছি, শারদীয় দুর্গোৎসবের সময় খোকা ভাই যখন পূজা মন্ডপে যেতেন, হিন্দু দোকানীরা দোকান ফেলে ‘খোকা ভাই’ বলে রাস্তায় নেমে আসতেন। এমনতর অসংখ্য উদাহরণ আছে।’
এতে খোকা পুরান ঢাকাবাসীর আস্থা অর্জন করেন বলে অনেকে উল্লেখ করেন।
১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসন (সূত্রাপুর-কোতোয়ালি) থেকে শেখ হাসিনাকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় আসেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ঢাকার আটটি আসনের মধ্যে সাতটিতে বিএনপি প্রার্থী পরাজিত হলেও একমাত্র খোকা নির্বাচিত হন।
