দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের পানিতে দুর্বৃত্তদের বিষপ্রয়োগের ফলে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী মারা গিয়ে ভেসে উঠছে।
সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে মাধবকুণ্ডের ও ছড়ার পানিতে বিভিন্ন প্রজাতির মরা মাছ, ব্যাঙ ভেসে থাকতে দেখা গেছে। স্বচ্ছ পানির নিচে মরা মাছ, কাঁকড়া, ব্যাঙসহ নানা জলজ প্রাণী পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানান, পচা মাছের দুর্গন্ধে গত ৩ দিন ধরে জলপ্রপাত ও ইকোপার্ক এলাকার পরিবেশের বিপর্যয় ঘটেছে। পানি ও বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়ানোর কারণে আগত পর্যটকরা আনন্দ উপভোগ না করেই ফিরে যাচ্ছে।
মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, বিষপ্রয়োগের ফলেই মাছ ও জলজ প্রাণী মরে যাচ্ছে। সেখানে কেমিক্যাল নয় লতা জাতীয় বিষপ্রয়োগ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে মাছ শিকার করতেই অসাধু চক্র অমানবিক এ কাজটি করেছে। পানির স্বাভাবিক অবস্থা ফেরাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পাথারিয়া পাহাড়ের ওপরের বিভিন্ন ছড়ার পানি একত্রিত হয়ে গড়িয়ে নিচে পড়ায় মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের নিচে গভীর জলাশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এ জলাশয়ের পানি মাধবছড়া ছড়া (ছোট নদী) দিয়ে নিচের দিকে প্রবাহিত হয়ে হাকালুকি হাওরে পতিত হয়েছে। জলপ্রপাতের নিচের জলাশয় ও ছড়া বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণীর নিরাপদ আবাস্থল।
শনিবার সকালে হঠাৎ পর্যটন পুলিশ, স্থানীয় আদিবাসী খাসিয়া ও ইকোপার্কের কর্মীরা জলপ্রপাতের পানিতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, ব্যাঙ, কুচিয়া, কাঁকড়াসহ জলজ প্রাণী মরে ভেসে থাকতে দেখেন। পচে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে তারা মরা মাছগুলো উঠিয়ে অন্যত্র ফেলে দেন। ওই দিন থেকেই দুর্গন্ধের কারণে মাধবকুণ্ড আগত পর্যটকরা মূল স্পটে না গিয়েই ফিরে যাচ্ছেন।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোমবার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
মাধবকুণ্ড পর্যটক সহায়ক ও উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন জানান, শনিবার ভোর থেকেই বামাস, শোল, সরপুঁটি, পাহাড়ি চিংড়ি, বাইন, ট্যাংরাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মরা-পচা মাছ ভেসে আছে। পচে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে পর্যটন পুলিশ তাদেরকে দিয়ে মরা মাছগুলো তুলে অন্যত্র সরিয়ে ফেলে। কিন্তু এরপরও পানি ও বাতাসের দুর্গন্ধ যাচ্ছে না। মাধবকুণ্ডে নিচের পানি অত্যন্ত স্বচ্ছ থাকায় পানির দেড়/দুই ফুট নিচে অবস্থানকারী ছোটবড় মাছ ও জলজ প্রাণী দেখা যেত। এতে পর্যটকরা আনন্দ উপভোগ করত। পানিতে নেমে সাঁতার কাটতো। কিন্তু মাছসহ জলজ প্রাণী নিধন করায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ থেকে পর্যটকরা দীর্ঘদিন বঞ্চিত থাকবে।
মাধবকুণ্ড পর্যটন পুলিশের ইন্সপেক্টর আবু ফয়সল মো. আতিক জানান, মরা ও পচা মাছ ভেসে থাকতে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বন বিভাগকে জানানো হয়েছে।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এসএম সাজ্জাদ হোসেন জানান, বিষয়টি তাকে কেউ অবগত করেনি। খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সুলতান মাহবুব জানান, সোমবার বিকেলে তিনি ঘটনাস্থলে একজন স্টাফ পাঠিয়ে পানি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েছেন, কেমিক্যাল জাতীয় নয়, লতা (একধরনের বিষ লতা) জাতীয় বিষপ্রয়োগের ফলে মাছ ও জলজ প্রাণী মারা গেছে। পানির স্বাভাবিক অবস্থা ফেরাতে মঙ্গলবার সেখানে ওষুধ প্রয়োগ করা হবে। এতে পানি ও বাতাসের দুর্গন্ধ দুর হবে এবং স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে।
