ধানমণ্ডিতে জোড়া খুনের ঘটনায় করা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে।
সোমবার ধানমণ্ডি থানা পুলিশ হত্যা মামলার যাবতীয় নথিপত্র ও আটক আসামিদের ডিবির ধানমণ্ডি জোনাল টিমের কাছে হস্তান্তর করেছে।
গত শুক্রবার রাতে ধানমণ্ডির ২৮ নম্বর রোডের ২১ নম্বর বাড়ির চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে আফরোজা বেগম ও তার গৃহকর্মী দিতির গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। এর পরপরই পুলিশ ওই বাসা থেকে তাদের বাসার পুরনো কাজের লোক আতিকুল হক বাচ্চু, ভবনের সিকিউরিটি গার্ড নুরুজ্জামান, শাফিন, রুমান, ইলেকট্রিশিয়ান বেলায়েত, কেয়ারটেকার বেলাল প্রিন্স ও ক্লিনার মনুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে ধানমণ্ডির ২৮ নম্বর রোডে কানা নামে ভ্রাম্যমাণ পান বিক্রেতাকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
ধানমণ্ডি থানার ওসি আবদুল লতিফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের কাছে যেসব আসামি ছিল সবই ডিবির কাছে দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত তারাই করবে।’
তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন প্রধান আসামি নাহিদা আক্তার সুরভী আমাদের জিজ্ঞাসাবাদে এ জোড়া হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। তবে সে বাসা থেকে কোনো স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা লুটের কথা অস্বীকার করেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে দাবি করেছে, তাকে বাসা থেকে বাইরে যেতে বাধা দেওয়ায় দুজনকে নিজেই খুন করেছে।’
তবে সুরভীর এসব তথ্য বিশ্বাস করছেন না তদন্তকারী ডিবির কর্মকর্তারা। ডিবির ধানমণ্ডি জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. আহসান খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হত্যার মোটিভ আড়াল করতেই সে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেছে। আজ মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হবে।’
তিনি বলেন, বাসা থেকে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার খোয়া গেছে কি না সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মামলার এজাহারে যাদের নাম দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকেই এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয় বলে ধানমণ্ডি থানার ওসি আবদুল লতিফ জানিয়েছেন। এজাহারে নাম থাকায় আটক সাতজনকে আপাতত ছাড়া সম্ভব না হওয়ায় সবাইকে ডিবির হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।
