জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে প্রশাসনের দেওয়া নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করেছে আন্দোলনকারীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা ও শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার পর বিকেল পৌনে ৪টার দিকে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে জড়ো হন।
সেখান থেকে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন আন্দোলনের সমন্বয়ক অধ্যাপক রায়হান রাইন।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে জরুরি সিন্ডিকেট বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা এবং শিক্ষার্থীদের বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে হল ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে অপসারণের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর দুপুর ১২টার দিকে ছাত্রলীগসহ উপাচার্যপন্থীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
এ হামলার ঘটনায় আন্দোলনকারী শিক্ষক, ছাত্রী এবং দায়িত্বরত তিন সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে নারী শিক্ষার্থীসহ ৭-৮ জন বেধড়ক মারধরের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা।
অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘ছাত্রলীগ সশস্ত্র হয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। পিস্তল নিয়ে এসেছে তারা। তারা আমাদের মাড়িয়ে যেতে চায়। আমাদের কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত।’
‘তারা আমাদের শিক্ষক এবং নারী শিক্ষার্থীদেরও পিটিয়েছে, লাথি দিয়েছে, চেয়ার দিয়ে পিটিয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশনায় এ হামলা হয়েছে। এই উপাচার্যের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে’ যোগ করেন তিনি।
দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে জাবি উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে তার বাসভবনে অবরুদ্ধ করেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি অবস্থান নেন উপাচার্যপন্থী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
