সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এক গৃহবধূকে তার আত্মীয়সহ মারধরের পর অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ওই নির্যাতিতা নারী বাদী হয়ে শনিবার দুপুরে সোনাগাজী মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত আসামিরা হলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ, সফরপুর গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে রিয়াদ, মিলন কানু নাথের ছেলে সঞ্জয় নাথ, নারায়ণ চন্দ্র নাথের ছেলে সুমন নাথ, নির্মল চন্দ্র শীলের ছেলে সমীর শীল।
ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, ওমান প্রবাসী ভাইয়ের সঙ্গে প্রবাসে চাকরি সূত্রে পরিচয় হওয়া মানিকগঞ্জ জেলার সাইফুল ইসলাম গত ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। ওই রাতে আসামিরা বাড়িতে এসে মেহমান কোথায় আছে জানতে চেয়ে আমাকে মারধর করে। পরে তারা আমার জ্যাঠার ঘর থেকে মেহমানকে ধরে এনে বেদম মারধর করে ঘরের একটি কক্ষে আটকে জোরপূর্বক আমাদের আপত্তিকর অশ্লীল ছবি তোলে।
তিনি বলেন, এ সময় আসামিরা ঘরের আলমারি ভেঙে ১০ হাজার টাকা ও মেহমানের ২০ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইল সেট ছিনিয়ে নিয়ে আরও এক লাখ টাকা দাবি করে। টাকা দিতে না পারায় তারা আমাদের মেহমানকে বাড়ি থেকে রাস্তায় নিয়ে মারধর করতে থাকে। ওই সময় স্থানীয় মেম্বার হামিদ তাদের ৮০ হাজার টাকার চেক প্রদান করলে হামলাকারী চলে যায়। পরের দিন আমি হামিদ মেম্বারকে নগদ ৮০ হাজার টাকা প্রদান করি। একই সময়ে তারা আমাদের মেহমানের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ৫০ হাজার টাকা ক্যাশ আউট করে নিয়ে যায়। তাদের হুমকি ধামকিতে এলাকা ছেড়ে আত্মীয়র বাড়িতে আত্মগোপন করি।
তিনি আরও বলেন, আসামিরা থানায় মামলা করলে বা কাউকে জানালে অশ্লীল ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় ভয়ে এত দিন মামলা করতে সাহস করিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে দাবি করেন।
স্থানীয় চেয়ারম্যান জহিরুল আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অভিযুক্তদের আইনি প্রক্রিয়ায় বিচারের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হবে।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মঈন উদ্দিন আহমদ বলেন, গৃহবধূ থানায় অভিযোগ করেছেন। তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
