মেক্সিকোয় রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন বলিভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস। পদত্যাগের একদিন পরেই মেক্সিকোর সরকারি একটি বিমানে করে তিনি দেশ ছাড়েন।
বিবিসি জানায়, রবিবার পদত্যাগের পর মেক্সিকোয় রাজনৈতিক আশ্রয়ের প্রস্তাব পান মোরালেস। সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন বলে নিশ্চিত করেন মোরালেস নিজেই।
এক টুইটার বার্তায় মোরালেস জানান, বলিভিয়া ছেড়ে যাওয়া তার জন্য বেদনার। কিন্তু আরও বেশি শক্তি ও সামর্থ্য নিয়ে তিনি ফিরে আসবেন।
মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্সেলো এভরার্দ নিশ্চিত করেন, মেক্সিকোর একটি সরকারি বিমানে করে মোরালেস বলিভিয়া ছাড়েন।
২০০৬ সালে নির্বাচনে জিতে প্রথম ক্ষমতায় আসেন মোরালেস। কয়েক মেয়াদে ক্ষমতায় থেকে দারিদ্র্য মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে বেশ সফলতা দেখান তিনি।
কিন্তু ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগে জনগণের বিক্ষোভের মুখে পড়েন মোরালেস। একপর্যায়ে সেনাবাহিনীর আহ্বানে রবিবার তিনি পদত্যাগ করেন।
নির্বাচনের রাতে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই ২৪ ঘণ্টার জন্য ভোট গণনা বন্ধ রাখার পর প্রথম উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে ইভো মোরালেসকে বিজয়ী ঘোষণা করা হলে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
সহিংস বিক্ষোভে কমপক্ষে তিনজন প্রাণ হারান। পরবর্তীতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দেন কিছু পুলিশ সদস্যও। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে সহায়তা দিতে সেনাসদস্যদের নির্দেশ দেন দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান।
এ সপ্তাহের শুরুতে তার সমর্থকদের অনেকের ওপর হামলা হয়েছে এবং তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।
‘সুস্পষ্ট কারচুপি’র প্রমাণ পাওয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা রবিবার নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করার আহ্বান জানায়।
বলিভিয়ার নির্বাচন কর্তৃপক্ষ ঢেলে সাজানোর পর মোরালেস পর্যবেক্ষকদের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হন। একই সঙ্গে নতুন নির্বাচন আয়োজন করার ঘোষণা দেন।
তবে রাজনীতিবিদ, পুলিশ এবং সেনাবাহিনী ইভো মোরালেসকে নির্বাচন থেকেও সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে মোরালেস জানান, তিনি প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগ করবেন। একই সঙ্গে হামলা ও ভাঙচুর বন্ধ করতে বিক্ষোভকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ভাইস প্রেসিডেন্ট আলভারো গার্সিয়া লিনেরা এবং সিনেট প্রেসিডেন্ট আদ্রিয়ানা সালভাতিয়েরা ইতিমধ্যে পদত্যাগ করেছেন।
তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মোরালেস দাবি করেন, ‘ক্যু ষড়যন্ত্রকারীরা বলিভিয়ার গণতন্ত্রকে ধুলায় মিশিয়ে দিয়েছে।’ এতে তিনি আরও জানান, তার বিরুদ্ধে অবৈধ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
এদিকে বিরোধীদলীয় প্রতিনিধি এবং পার্লামেন্টের দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেনিন অনেজ পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গিয়েছে।
