কসবায় দুই ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত হয় তিন বছরের ছোঁয়া মণি। তার মরদেহ পড়ে আছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে।
ছোঁয়া মণির বাবার নাম সোহেল মিয়া, মা নাজমা বেগম। মঙ্গলবার ভোর রাত সাড়ে তিনটার দিকে কসবার মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনে ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তারাও।
অন্যদের মতো তাদের তিনজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান উদ্ধারকারীরা। মর্গে নেওয়ার পরই চিকিৎসকরা ছোঁয়া মণিকে মৃত ঘোষণা করেন। আর সোহেল ও নাজমার অবস্থা বেশি গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেলে।
ছোঁয়া মণির লাশটি ময়নাতদন্ত ছাড়াই বাড়ি নিয়ে যেতে চান বলে জানিয়েছেন তার মামা জামাল। তিনি এরই মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনে আন্তঃনগর তূর্ণা নিশিতা ও আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনায় ১৬ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হন। দুর্ঘটনার জন্য একটি ট্রেনের চালকের ভুলকে দায়ী করা হচ্ছে। হতাহতরা সবাই উদয়নের ট্রেনের যাত্রী।
রেলওয়ে স্টেশন, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ট্রেন ঢাকাগামী তূর্ণা নিশিতা ভোর রাত ২টা ৪৮ মিনিটে শশীদল রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করে মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনের দিকে রওনা করে। মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার তাকে মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনে প্রবেশের আগেই আউটারে থামার জন্য সংকেত দেন।
অপরদিকে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস কসবা রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনে প্রবেশ পথে স্টেশন মাস্টার তাকে মেইন লাইন ছেড়ে দিয়ে ১ নম্বর লাইনে আসার সংকেত দেন।
ওই ট্রেনের চালক ১ নম্বর লাইনে প্রবেশ করছেন। ছয়টি বগি প্রধান লাইনে থাকতেই অপরদিক থেকে আসা তূর্ণা নিশিতা ট্রেনের চালক সিগনাল (সংকেত) অমান্য করে দ্রুতগতিতে ট্রেন চালায়।
এ সময় উদয়ন ট্রেনের মাঝামাঝি তিনটি বগির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উদয়ন ট্রেনের তিনটি বগি দুমড়ে মুচড়ে যায়।
