ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তা-বে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা নিয়ে রয়েছে জল্পনা-কল্পনা। কিন্তু সাতক্ষীরার আশাশুনির মুরগির খামারি মরিয়মের বেঁচে থাকার অবলম্বনটাও যে ধ্বংস হয়ে গেল এ নিয়ে হয়তো কখনো কেউ খোঁজখবর নেবে না। কিস্তির টাকা শোধ না করলে মরিয়মকে আত্মহত্যাও করতে দেবে না এনজিওগুলো এরকমই এক নিষ্ঠুর চিত্র ঘটে চলেছে দেশের দক্ষিণের এ জেলায়।
ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ল-ভ- করে দিয়ে গেছে কতজনের কতকিছু। কিন্তু হয়তো কেউ কোনোদিন খোঁজ নেবে না সাতক্ষীরার মুরগি খামারি মরিয়মদের দুঃখ-দুর্দশার এ কথা। এনজিও এবং মহাজনের কাছ থেকে সুদে ঋণ নিয়ে আশাশুনি উপজেলার সব থেকে সফল ও বৃহৎ খামার গড়ে তোলেন মরিয়ম। সফলও হন। ভালো লাভের মুখও দেখছিলেন অতিদরিদ্র থেকে উঠে আসা সাধারণ শিক্ষার আলোহীন মরিয়ম। কিন্তু বুলবুলের দমকা হাওয়া সম্ভাবনার সেই প্রদীপ নিভিয়ে দিয়ে গেছে।
মরিয়ম বলেন, ‘সকালে ভেবেছি শক্তপোক্তভাবে বানানো এ ফার্ম কিছু হবে না। কিন্তু তা আর হলো না। আমাদের ঘাড়ের ওপরে পড়ল ঘর। হাজার হাজার মুরগি মরল। আমাদেরও মেরে গেল। আমরা সবাই মরে গেলে হয়তো এ যন্ত্রণা সহ্য করতে হতো না। প্রতিবেশী সবাই এসে আমাদের উদ্ধার করল তখন আমরা সবাই জ্ঞানহারা। জ্ঞান ফিরে হাসপাতাল থেকে ছুটে এসেছি আমার মুরগিরা কেমন আছে দেখতে। কিন্তু এসে দেখি আমার ফার্ম শ্মশান হয়ে গেছে। মরে গেছে হাজারও মুরগি।’ এসব কথা বলতে বলতে তিনি বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন। প্রতিবেশীরাও এ সময় কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।
মরিয়মের ছোট মেয়ে নাজমা খাতুন জানায়, তার মা মরিয়ম প্রথমে নিজের অসুস্থতার জন্য ঋণ নেন। চিকিৎসা করে সুস্থও হন। এরপর সেই ঋণ শোধ করতে বক্কার-মরিয়ম দম্পতি আরেকটি এনজিও থেকে ঋণ নেন। উদ্যোগ নেন সোনালি মুরগির ফার্ম করার। বাড়ির পাশে দুই বিঘা জমি বর্গা নিয়ে শুরু করেন ফার্ম। সেখানে জমির মালিকও ১ লাখ টাকা সুদে ঋণ দেন। এভাবে ৭ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে পুকুরও লিজ নেন মাছ চাষের জন্য। আশা ছিল সুখের মুখ দেখবেন। কিন্তু বুলবুলের ঝড়ে এখন তাদের বেঁচে থাকার সব আশা শেষ। এ অবস্থায় তারা যাতে আত্মহত্যাও করতে না পারেন তার জন্য খোঁজ রাখছে পাওনাদার ও এনজিওরা। এখন মানুষ দুটো খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিলে তাদের খাওয়া হয়, নইলে নয়।
আশাশুনি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সেলিম রেজা মিলন বলেন, এই মুহূর্তে সরকার মরিয়মদের মুখের দিকে না তাকালে পরিবারটা শেষ হয়ে যাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলিফ রেজা বলেন, আশাশুনির ক্ষয়ক্ষতির চিত্র অনেক। গণমাধ্যমে তা ঠিকমতো উঠে আসছে না। মরিয়মের যে ক্ষতি হয়েছে তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।
